Author Archives: muktimusician

About muktimusician

In the year of 1953 I came to this beautiful world while violent storm was shivering mother earth. In the month of April on the 13th which happened to be a Tuesday, I cried for the first time on my mothers’ lap and all my relatives rejoiced. It was an occasion of double happiness because my birth brought the long happy New Year along with it.This is Mukthi, Mukthishena71, somebody called me Mokter, some one mothul, but in 1971 I have changed my name when I have joined the Liberation war as a freedom fighter. The freedom fighter of Bangladesh liberation war called Mukthi bahini / Mukthifouze / Mukthishena, just I have found the new name so no one can call me others name which is not perfect and didn’t like. I became Mukthi, Moktel Hossain Mukthi. I’m from South Akal Barish Village, Banshgadi Union under Kalkini UpaZila of Madaripur district. Basically I have sang tagore songs in the media. Sometimes composing the music and lyricist I couldn’t anything in my life. Neither had I done anything for the people nor for my family due to my abnormality in 1975 august. Whereas, I got so many opportunity/ chances in my life that I couldn’t proper used for the people whom I loved so much. I loved father of nation Bangabandhu we couldn’t safe him & his family in 1975 being a freedom fighter that was one kind of burning fire on my heartiest c I have cried a lot on the streets in 1975 for Bangabandhu even I was on the streets until midnight as a mad (I was in then PG Hospital under treatment of Dr. Hazera Mahtab (daughter of Late Dr. Ibrahim & wife of Dr. Fashiuddin Mahtab ) three months. the Ministry of Land allowed my job without pay of there months salary due to my abnormality. After liberation father of nation Bangabandhu & first Prime Minister of Bangladesh Late tajuddin Ahmed had given me a job in the ministry of land in 1972. I have worked with 11 Ministers & 9 full secretary including Abu Taher (Bangabandhu was selected him for Governor of Dhaka Division) M. Mokammel Huq, M. Keramat ALi, Golam Mostofa, jamsher Uddin Dr. Kamal Uddin Siddiqui, Md, Shahidul Alam and other so many. It is my great pleasure that I have worked with late abdur rob serniabat, Mollah Jalal, Sri Fonibhushon Majumdar, demoted Minister Mohamed Ullah (few days President of Bangladesh) I have beaten the police officer at Tejgaon Rail line in 1976 in absence of mind than finally central jail. The police beaten me whole night’s even put hot water to my face. Do you know why I have beaten that police officer? Yes, which I want to tell you that police sub inspector used slang and foul language to father of nation Shahid Bangabandhu Sheikh Mujib, sheikh kamal, sheikh jamal and sheikh fazlul haque moni at that midnight while I was coming from FDC Studio. After 14 days my elder brother took out me from the custody and finally PG Hospital for mental treatment. Dr. said its not mental case, just keep him as he as wants to do. Second thing: I was in Japan in 1992. On e day I have participated 21 February program which was arranged by Bangladesh Embassy of Tokyo, Japan. The program will be inaugurated by the Deputy High Commissioner Bangabandhu murderer Lt. Col. Rashed Choudhury instead of the High Commissioner. The ex student leader Md. Kofiluddin, Akbor, Prince, mezbah, Apu sarwar will not allow Rashed Choudhury to touch the national and black mourn flags. They made rally to protect him from the inauguration program and I was one of them to protest & postpone entire program and if killer Rashed Choudhury inaugurate the program we will not perform at the same program. High Commission called police nearby 5 hundreds of police surround us. Police commissioner came and spokes all of us, than he realized the real situation. That was an ideals decision by all of us. The empty ground of Bengali nation will never be fulfilling without Shahid Bangabandhu & Late 4 National Leaders. I am writing the song of remembrances those heroes given the independence of Bengali nation & singing on occasionally. It is my great pleasure that I was closed to them all (from Kolkata) in 1971-1975 august 15. More interesting some of story I’d like to tell you. Later on I was PS to Md. Noor Ali, Chairmen & Managing Director, Unique Group (1997-2001). Noor Ali was nominated by Awami League in 2001 for Nawabganj constituency. Late Agricultural Economist Shankar Goswami, President Bangladesh Student League (former APS to HPM AFM Bahauddin Nasim was the Secretary General of NASIM GOSWAMI COUNCIL) was political secretary. Shankar and I lead the entire election campaign at Nawabganj in 2001. I have written 10 songs for that election and published an album in favor of BOATS & NOOR ALI. You know 2001 National Assembly Election was engineering by the army and CIA PISI so Awami league failure to get the power. Thereafter, it was very sad heart paining story. Some of miscreants suddenly had attacked to Unique Group to heats NOOR ALI but he was in out only they found some of staffs and me. They hits me, kicks me as the human people some times beating the animals. They took my hair from my foreheads’. I apologized for my campaign, album & supporting Awami league. I said forgive me, I beg pardon as a freedom fighter to them. Leave me the country, I will never come and never sing any songs of Bangabandhu & Awami league. Everything i have reported to present Finance Minister and other but no response properly and those miscreants had hurt me still their in Gulshan Banani area. Being a freedom fighter I want justice. I want a major punishment of OC Nassir who was in Gulshan PS in 2002. Still I don't know is he in job or not? No more dear friends …………… The memorial music album of Bangabandhu “mukthir gaan” 1 2 & 3 you may listen on: sheikh hasina

শেখ হাসিনার বৈশ্বিক নেতৃত্ব

শেখ হাসিনার বৈশ্বিক নেতৃত্ব

বিশ্বশান্তি ও উন্নয়ন প্রসঙ্গ

‘দেশ ও বিশ্বপরিম-লে শেখ হাসিনা আজ গণতন্ত্র, উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও শান্তির প্রতীক। তারই নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘে অনেকগুলো প্রস্তাব আনে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবকল্যাণ, টেকসই উন্নয়ন এবং সকল জাতিসত্তার অব্যাহত উন্নয়ন ও মুক্তি।’


ড. আব্দুল মোমেন: প্রাণঘাতী যুদ্ধ-বিগ্রহ আর অযুত মানুষের হত্যাযজ্ঞের ওপর দাঁড়িয়ে শান্তির অন্বেষায় ১৯৪৫ সালে যে বিশ্ব সংস্থাটির জন্ম, সেই জাতিসংঘ পরিপূর্ণারূপে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছে কি-না তা এখনও বিশ্বজুড়ে একটি আলোচ্য বিষয়। তবুও সাবেক মহাসচিব দ্যাগ হ্যামার্শ্যল্ড-এর ভাষায় বলতে হয়, ‘জাতিসংঘ আমাদের স্বর্গে নিতে না পারলেও নরক থেকে দূরে রাখতে সমর্থ হয়েছে।’ পৃথিবীর নানা অঞ্চলের সংঘাতপূর্ণ বিষয় ও সমস্যার ওপর আলোচনা, বিতর্ক ও সংলাপ যেমন জাতিসংঘ আয়োজন করে চলেছে, তেমনি সংস্থাটি অন্তত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এই পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখতে সমর্থ হয়েছেÑ এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। আশার কথা হচ্ছে, এই যে জাতিসংঘের নিরলস প্রয়াসের কারণেই আজ পৃথিবীতে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমেছে, প্রসূতি মায়েরা অধিক হারে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিচ্ছে, লাখ লাখ শিশু স্কুলে যাচ্ছে এবং কোটি কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধার ভয়াল চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। তবে এই অর্জন সম্ভব হতো না, যদি বৈশ্বিক নেতৃত্বের গতিশীলতা, দৃঢ়সংকল্প ও প্রয়াস না থাকতÑ যারা স্ব-স্ব দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে ইস্পাত কঠিন সংকল্প নিয়ে কাজ করেছেন এবং এখনও করে চলেছেন। তেমনি এক নেতৃত্ব জাতিসংঘের স্বীকৃৃতিসহ সারা পৃথিবীতে সুশাসনের জন্য নিজের দেশের সম্মান ও গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। নিজের দেশসহ সারা পৃথিবীতেই নিরাপত্তা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্তি এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য এই নেতৃত্ব বিশ্বসভায় অগ্রসর অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। সেই নেতৃত্ব আর কেউ নন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও আজ ন্যায় ও সুশাসন এবং উন্নয়নের প্রতীক বলে খোদ জাতিসংঘই বলছে বাংলাদেশ ও দেশটির নেতা শেখ হাসিনার কথা।_-.j1pg21

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন সুশাসন ও মানবতার প্রতি বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার এই সংকল্প? কেন তিনি নিজের দেশের মানুষ এবং বিশ্বের জন্য দারিদ্র্য দূরীকরণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত? কেন তিনি বৈষম্যহীন এবং সকলের অংশগ্রহণমূলক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি ‘সোনার বাংলা’ গঠনের স্বপ্নে বিভোর? কেন তিনি জাতিসংঘের নেতৃত্বে বিশ্বে সন্ত্রাস ও ধর্মীয় উগ্রবাদমুক্ত পৃথিবী উপহার দিতে প্রয়াসী? কেন তিনি নিজের দেশ এবং পৃথিবীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ? জাতি, লিঙ্গ, ধর্ম, বর্ণ এবং দেশের সীমারেখা নির্বিশেষে কেন তিনি একটি সহনশীল ও নিরাপদ বিশ্ব গঠনে জাতিসংঘকে অকুণ্ঠ সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছেন? কেন দৃঢ়ভাবে জাতিসংঘ সনদের আলোকে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং বহুমাত্রিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রতি এতটা আস্থাশীল হয়ে বৈশ্বিক শান্তির পতাকা বয়ে বেড়াতে তিনি সদা তৎপর? এ প্রশ্নগুলো গভীরভাবে ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে।_--_22-

শেখ হাসিনা এমন একটি সমাজের মানুষ যেখানে সুদূর অতীত থেকেই, ১৪৯২ সালে কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার বা ষোড়শ শতাব্দীর ইউরোপীয় শিল্প বিপ্লবেরও আগে, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ছিল। কবি চ-ীদাসের ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’, কিংবা কাজী নজরুল ইসলামের ‘গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান’Ñ এসব লেখায় আমরা সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য পাই। চ-ীদাসের এ দর্শনতত্ত্ব বাঙালির মনন ও মানসের এতটাই গভীরে প্রোথিত যে তা শতাব্দীর পর শতাব্দী উচ্চারিত হয়েছে। মানবতাই সবার ঊর্ধ্বেÑ তেমনি এক আলোকিত পরিম-ল থেকে উঠে এসেছেন শেখ হাসিনা। তিনি এমন এক পরিবার থেকে এসেছেন, দেশ ও মানবতার জন্য আত্মত্যাগ যাদের অপরিসীম। তার পিতা সারাটা জীবন অতিবাহিত করে গেছেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য যাকে জেল খাটতে হয়েছে জীবনের দীর্ঘ সময়। তিনি চেয়েছিলেন একটি শোষণমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র যেখানে সকলের জন্য সমানাধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার,_--_2-

অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা-শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। তার স্বপ্ন ছিল এমন একটি দেশ যার মূল ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তা; যেখানে থাকবে না ক্ষুধা-দারিদ্র্য, শোষণ এবং অবিচার। এহেন একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে যখন বঙ্গবন্ধু আত্মনিয়োগ করেছেন তার সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশে, ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালে তাকে সপরিবারে হত্যা করে পরাজিত পাকিস্তানিদের দোসর এদেশীয় ঘাতকচক্র। ওই ভয়াল হত্যাকা-ে শেখ হাসিনা কেবল তার পিতাকেই নয়, হারান পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে; এমনকি তার ৯ বছরের ছোট্ট শিশু ভাইকেও রেহাই দেয়নি খুনিরা। শুধু তিনি নিজে এবং তার ছোট বোন বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।_2-00

মানুষের জন্য শেখ হাসিনার জীবনসংগ্রাম এখানেই শেষ নয়, তিনি এ পর্যন্ত ২৩ বার প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছেন। প্রতিটি হামলার ক্ষেত্রেই তার প্রিয় রাজনৈতিক সহকর্মীদের অনেকেই নিহত বা আহত হয়েছেন; নয় তো পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে, প্রিয় সহযোদ্ধাদের হারিয়েও শেখ হাসিনা দমে যাননি। তার লড়াই-সংগ্রাম চলছে। সারাবিশ্বে আর কোনো দেশে এমন একজন নেতা খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি নিজের সর্বস্ব হারিয়েও দেশের আপামর জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার এবং একটি উন্নত-সুন্দর জীবন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নিয়ত সংগ্রাম করে চলেছেন। দেশে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা-শিক্ষাসহ সকল মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবিচল থেকে তিনি কাজ করে চলেছেন নিরন্তর।

এতে সন্দেহের কোনো_4-

অবকাশই নেই যে দেশ ও বিশ্বপরিম-লে শেখ হাসিনা আজ গণতন্ত্র, উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও শান্তির প্রতীক। তারই নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘে অনেকগুলো প্রস্তাব আনে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবকল্যাণ, টেকসই উন্নয়ন এবং সকল জাতিসত্তার অব্যাহত উন্নয়ন ও মুক্তি। উদাহরণস্বরূপ, তারই নেতৃত্বে ও তারই আনীত প্রস্তাবের কারণে জাতিসংঘে আজ ‘উন্নয়নের অধিকার’ একটি মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাবের কল্যাণে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার কল্যাণেই আজ জাতিসংঘে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ বা ‘ঈঁষঃঁৎব ড়ভ চবধপব’ চালু হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জোরালভাবে অনুসৃত হচ্ছে।0

কেন এই শান্তির সংস্কৃতি এতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক? এর মূলনীতি হচ্ছে এমন একটি আবহ সৃষ্টি করা যার মাধ্যমে পরমত সহিষ্ণুতা এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা যায়Ñ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা এবং নৃ-গোষ্ঠীগত পরিচয় নির্বিশেষে। কেননা, শান্তির সংস্কৃতি বিশ্বাস করে যে, অসহিষ্ণুতা এবং ঘৃণা থেকেই সর্বপ্রকার বিরোধ, সহিংসতা ও যুদ্ধের উৎপত্তি। তাই সকলের মাঝে যদি পারস্পরিক সহিষ্ণুতা এবং শ্রদ্ধাবোধ সৃজন করা যায়, তা হলেই আমরা যুদ্ধহীন ও সংঘাতমুক্ত এক পৃথিবী গড়তে পারব। তা হলেই সম্ভব হবে স্থায়ী উন্নতি, সমৃদ্ধি ও শান্তি অর্জনÑ জাতিসংঘের মূল লক্ষ্যও তাই। আশার কথা এই যে বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনা অনুসৃত শান্তির সংস্কৃতি আজ বিশ্বজুড়ে, সকল জাতির মাঝেই ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে।4

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ আজ সর্বোচ্চ সৈন্যদাতা রাষ্ট্র। যুদ্ধ আক্রান্ত রাষ্ট্রে যাতে সাধারণ মানুষ এবং শান্তিরক্ষীরা সুরক্ষিত থাকে সে বিষয়ে শেখ হাসিনা বদ্ধপরিকর। বিশ্বে তিনিই একমাত্র নেতা যিনি এমনকি বড়দিনের ছুটির মাঝেও জাতিসংঘ মহাসচিবের অনুরোধে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শান্তিরক্ষী প্রেরণের নির্দেশনা দিয়েছেন। শান্তিরক্ষী প্রেরণে তিনি কখনোই কার্পণ্য করেননি। এটি কোনো বিস্ময়ের ব্যাপার নয় যে ১ লাখ ৩৮ হাজার শান্তিরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ে জাতিসংঘ সারা পৃথিবীতে শান্তি রক্ষা করতে সমর্থ হচ্ছে যেসব সৈন্যের অনেকেই তাদের জীবনের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। তারা প্রকৃত অর্থেই শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারের দাবিদার।523

শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘে দুটি যুগান্তকারী প্রস্তাব আনে ২০১২ সালে, যা সর্বসম্মতিক্রমে বিশ্বসভায় গৃহীত হয়। এর প্রথমটি ছিল অটিজম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত, আর দ্বিতীয়টি জনগণের ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত। তিনি বিশ্বাস করেন, সবারই অংশগ্রহণের সমান সুযোগ রয়েছে, কারোরই বাদ পড়ার কথা নয়। মানবতা ও উন্নয়নে সবাই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখতে পারে। তাই অটিজমে আক্রান্ত এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জীবন যন্ত্রণা ও বঞ্চনার বিষয়টি যখন তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন উত্থাপন করেন, বাংলাদেশ দ্রুত এ বিষয়টি বিশ্বসভায় উত্থাপন করে এবং বিশ্বনেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ ও সমর্থন আদায় করে।---2-

অটিজম এবং প্রতিবন্ধিতা সংক্রান্ত অনেকগুলো বড় বড় সভা আহ্বান করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ এবং তার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সামনে বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পরপরই মহাসচিব তা সাধারণ পরিষদে সেগুলো প্রস্তাবিত ও অনুমোদিত হয় এবং সদস্য রাষ্ট্রসহ সবকটি জাতিসংঘ সংস্থার কর্মকা-ে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়। এক্ষেত্রে বৈশ্বিক নেতৃত্বটি অবশ্যই বাংলাদেশের এবং দেশটির নেতা শেখ হাসিনার।

বিগত ৪০ বছরের জাতীয় ও বৈশ্বিক রাজনীতির অভিজ্ঞতা থেকে শেখ হাসিনা জানেন যে সামনের দিনগুলোতে বিশ্বের প্রধানতম চ্যালেঞ্জগুলো হবে জলবায়ু পরিবর্তন, বেকারত্ব, আর্থিক সংকট, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষুধা ও দারিদ্র্য এবং এগুলো থেকে উদ্ভূত হাজারও সমস্যা। তাই তিনি বিশ্বাস করেন এই চ্যালেঞ্জগুলো তখনই মানুষ অতিক্রম করতে সক্ষম হবে যখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যাবে। একেই তিনি বলছেন জনগণের ক্ষমতায়ন। এটি সম্ভব হলে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী শক্তি, সক্ষমতা এবং কার্যকরিতার সাথে মানুষ কাজ করতে পারবে, ফলে সবাই সমভাবে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে পারবে। তাই জনগণের ক্ষমতায়নের প্রতি তিনি এতটা গুরুত্ব আরোপ করেছেন।03_02

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে জনগণকে ক্ষমতায়িত করা যাবে? বিষয়টিকে তিনি ৬টি আন্তঃসংযুক্ত চলকের দ্বারা বিশ্লেষণ করেছেনÑ প্রথমত; মানুষের ক্ষমতায়ন হবে চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্তি সম্ভব হলে, দ্বিতীয়ত; তাদের ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কারিগরি জ্ঞান ও মানসম্মত শিক্ষাদানের মাধ্যমে যাতে করে তারা নিজেরাই কর্মসংস্থান বা উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করে স্বাবলম্বী হবে, তৃতীয়ত; তাদের ক্ষমতায়ন সম্ভব হতে পারে বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসানের মাধ্যমে, চতুর্থত; সন্ত্রাস নির্মূল করে একটি নিরাপদ জীবন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়ন করা যাবে, পঞ্চমত; এতদিন যারা উন্নয়ন ও মূল জীবনধারার বাইরে ছিল, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে ক্ষমতায়ন করা যাবে এবং সর্বোপরি, তাদের ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ও শাসন ব্যবস্থায় সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে।sh10

শেখ হাসিনার ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ ধারণাটি জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনসসহ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের নেতৃবৃন্দের মধ্যেও অনুরণিত হয়েছে। ২০১২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ‘রিও+২০ বিশ্ব সম্মেলনে’ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ‘যেমন ভবিষ্যৎ চাই’ শীর্ষক দলিল গ্রহণ করেন যার মধ্যে শেখ হাসিনা প্রণীত জনগণের ক্ষমতায়ন নীতিমালা এবং তার সাথে জড়িত আদর্শ অনুসৃত হয়। উক্ত সম্মেলনে দারিদ্র্য দূরীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়, যার মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে সকলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা অর্জন। সম্প্রতি জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাব যা, ‘20130 Agenda for Sustainable WorldÕ বা ÔSDGs’ নামে পরিচিত সেটির মূল ভিত্তিই ছিল রিও+২০ তে অনুসৃত শেখ হাসিনার জনগণের ক্ষমতায়ন তত্ত্ব। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা জাতিসংঘে গ্রহণ করেন ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের যথার্থভাবেই শেখ হাসিনা প্রণীত জনগণের ক্ষমতায়ন নীতিমালার আলোকে সবার অন্তর্ভুক্তি, মানসম্মত শিক্ষা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দারিদ্র্য দূরীকরণ, জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, সুশাসন ইত্যাদি নির্ধারিত হয়।006

তার গতিশীল নেতৃত্বে জাতিসংঘে বাংলাদেশ কর্তৃক উত্থাপিত প্রতিটি বিষয়ই এসডিজি-র ১৭টি লক্ষ্য এবং ১৬৯টি উদ্দেশের মাঝে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, অভিবাসন ও উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ-সমতা, শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার, জলসম্পদের আন্তঃদেশীয় ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য, নীল অর্থনীতি (সাগর ও মহাসাগর), বিশ্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকতর অংশগ্রহণের সুযোগ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন, পারস্পরিক সহযোগিতা, এলডিসি ইস্যু ইত্যাদি।18

জাতিসংঘের সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে অবিস্মরণীয় অগ্রগতি, তা মূলত সম্ভব হয়েছে দেশটির নেতা শেখ হাসিনার উন্নয়ন চিন্তা এবং জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে তার অবিচল প্রতিজ্ঞার কারণেই। সম্পদের ব্যাপক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কেবল নেতৃত্বের বিচক্ষণতা, দৃঢ়তা এবং সঠিক দিক-নির্দেশনার কারণেই বাংলাদেশ এই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এককালে যে দেশকে বলা হয়েছিল ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ (Bottomless Basket), যার ‘সফল হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই’ বিশ্ব মোড়লেরা দেখেনি, সেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আজ ৬.৩ শতাংশ, তাও আবার এক নাগাড়ে সাত বছর ধরে। চরম দারিদ্র্য ১৯৯১ সালে যেখানে ছিল ৫৭.৮ শতাংশ, ২০১৫ সালে তা কমে এসেছে ২২.৪ শতাংশেরও নিচে। একই সাথে নবজাত শিশু মৃত্যুর হার ৭৩ শতাংশ কমিয়ে আনতে পেরেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের সর্বাধিক জনঅধ্যুষিত ও স্বল্প আয়তনের এক দেশের জন্য এই সাফল্য একেবারে কম নয়। আর এই অর্জন সম্ভব হয়েছে কেবল শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই।

দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিরোধিতা এবং নানান প্রতিবন্ধকতার মধ্যও শেখ হাসিনা তার দৃঢ় ও আপসহীন সিদ্ধান্তের দ্বারা দেশকে উন্নয়নের পথে যেভাবে পরিচালিত করেছেন, তার কল্যাণেই বাংলাদেশ খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, অথচ পূর্বে দীর্ঘ সময় ধরে দেশটি ছিল খাদ্য ঘাটতির মধ্যে। এই ব্যাপক পরিবর্তনের জন্য শেখ হাসিনা এবং তার দেশবাসী বিশ্বসভায় সাধুবাদ পেতেই পারেন। আর তারই প্রমাণ আমরা দেখি যখন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল’ এবং ‘নারীর ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল নক্ষত্র’। আমেরিকার প্রভাবশালী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ভাষায় বাংলাদেশ হচ্ছে ‘দক্ষিণ এশিয়ার আলোকবর্তিকা’ আর গোল্ডম্যান শ্যাক্স তাদের গ্লোবাল অবস্থানে বাংলাদেশকে এন-১১ তে উন্নীত করেছে, যার অর্থ হচ্ছে ১১টি অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ।sh4

দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম প্রধান দেশের সুনাম অর্জন করেছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে একাধিক পদকে ভূষিত করেছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনের জন্য এমডিজি-৪ পুরস্কার (২০১০)। সাউথ-সাউথ পুরস্কারে তিনি ভূষিত হন ২০১৩ সালে, দেশজুড়ে ১৩ হাজার ৮০০ কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ৪ হাজার ৫০১টি ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণকে সফলভাবে ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির সংযোগের আওতায় নিয়ে আসার স্বীকৃতিস্বরূপ। ২০১৪ সালে তাকে সাউথ-সাউথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলোতে নেতৃত্বের দূরদর্শিতার স্বাক্ষর হিসেবে। ২০১৫ সালে তিনি জাতিসংঘ কর্তৃক দুটি পুরস্কারে ভূষিত হন, এগুলো হচ্ছেÑ জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব মোকাবিলায় সফলতার জন্য ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার এবং টেলিযোগাযোগ খাতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার পুরস্কার বা ‘আইটিইউ অ্যাওয়ার্ড’।sh

২০০০ সালে যখন জাতিসংঘে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) ঘোষণা প্রদান করা হয় তখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নেতা হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আবার ২০১৫ সালে যখন ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা (এসডিজি) হয় তখনও তিনি বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে নেতৃত্বদান করেন। তিনি বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি জাতিসংঘের উন্নয়ন সংক্রান্ত এ দুই মাইলফলক ঘোষণার সময় নিজের দেশের নেতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তার দেশ সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে মর্মে ২০০০ সালের সম্মেলনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতি দেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে। সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করেছেন। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সেই যে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছে। ২০১৫ সালের সম্মেলনে আবার যখন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেন (যা ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জন করতে হবে)sh11

তখন শেখ হাসিনা বিশ্বসভায় এই প্রতিশ্রুতি দেন যে তার দেশ এই লক্ষ্যমাত্রাও যথাসময়ে পূরণ করবে। শুধুু সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকেন নি তিনি, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে তারই স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছেন তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী ও বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা। এ হবে এমন এক বাংলাদেশ যেখানে সবাই পাবে সমানাধিকার, ন্যায়বিচার এবং সুষম উন্নয়নের সুযোগ। যেখানে সমৃদ্ধি ও শান্তির মাঝে বাস করবে দেশের প্রতিটি মানুষ। সেই স্বপ্নই দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।

সাউথ-সাউথ দেশগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ ২ গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের এক বিশাল বাজারে পরিণত হবে এ দেশগুলো। তা সত্ত্বেও এ দেশগুলোর পূর্ণ সম্ভাবনা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এ দেশগুলোর প্রতিবছর ৫ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে। বর্তমানে বৈদেশিক সাহায্য স্কিমের আওতায় উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্রসমূহ বছরে ১৩৮ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়ে থাকে যার মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে যায় মাত্র ৩৮ থেকে ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অর্থ পর্যাপ্ত নয়। সাউথ-সাউথ দেশগুলোর অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোার জন্য এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি যথাযথভাবে তদারকি ও মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ সাউথ-সাউথ দেশগুলোর অর্থ ও উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রীদের একটি ফোরাম গঠনের প্রস্তাব করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহল কর্তৃক সমর্থিত হয়েছে। সম্প্রতি চীন সাউথ-সাউথ সহযোগিতার জন্য ১ বিলিয়ন ডলারেরও ‘আধুনিক বিশ্বে বাংলাদেশ আরও একটি কারণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছে, তা হলোÑ একটি শক্ত, সৃজনশীল ও পরিশ্রমী অভিবাসী শ্রমিকদের দেশ হিসেবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ বাংলাদেশের প্রায় ৯০ লাখ প্রবাসী নাগরিক রয়েছেন যারা কঠোর পরিশ্রম বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখছেন, তাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছেন।’ বেশি অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।sh2

শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সক্ষম হয়। এ কথা আজ সারাবিশ্ব জানে যে, ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলাদেশের জনগণ তাদের বুকের রক্ত দিয়েছে। সেই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ পৃথিবীর সব জাতির মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়াসে সেই দিনটিকে জাতিসংঘ সম্মানিত করেছে, যা আজ বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব দেশে পালিত হচ্ছে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আইনের শাসনে প্রতিষ্ঠার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমা নিয়ে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সাথে যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল সেই বিষয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র-আইন সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত তিনি গ্রহণ করেন, তারই ফলস্বরূপ বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমার ওপর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র ভারত এবং মিয়ানমারও তাদের আইনগত ন্যায্য পাওনা পেয়েছে। কোনো সংঘাত বা যুদ্ধ ছাড়াই এহেন বিরোধ নিষ্পত্তির ঘটনা পৃথিবীতে বিরল।shah1

শেখ হাসিনার শাসনের প্রথম মেয়াদে (১৯৯৬-২০০১) বাংলাদেশে কয়েকটি যুগান্তকারী ঘটনা ঘটে। এর প্রথমটি ছিল ভারতের সাথে দীর্ঘদিনের সমস্যা গঙ্গা নদীর পানির বণ্টনের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর। এর মাধ্যমে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় যে ঐতিহাসিক ঘটনা সেই সময়ে ঘটে সেটি হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর। যে সমস্যার আবর্তে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দোলাচলে সেই সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ নিয়ে শেখ হাসিনা সেই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের অবসান ঘটান বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে। পৃথিবীর সাম্প্রতিক ইতিহাসে শান্তি প্রতিষ্ঠার এমন নজির বিরল। মার্কিন কংগ্রেস এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এই সাহসী দুই চুক্তির জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রসংশা করেছে। সম্প্রতি কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভারতের সাথে অর্ধশতক ধরে ঝুলে থাকা ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছেন ৬৮ বছর আগের ‘সীমান্ত নির্ধারণ চুক্তি’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে। ফলে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার পেয়েছে দীর্ঘদিন ভাগ্যবিড়ম্বিত থাকা উভয় দেশের ছিটমহলবাসী। প্রকৃত অর্থেই শেখ হাসিনা শান্তি ও স্থিতিশীলতার মূর্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জন্য। আশার আলোকবর্তিকা হয়ে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন বিশ্বের শত কোটি নিপীড়িত মানবতার জন্য।sh3

আধুনিক বিশ্বে বাংলাদেশ আরও একটি কারণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছে, তা হলোÑ একটি শক্ত, সৃজনশীল ও পরিশ্রমী অভিবাসী শ্রমিকদের দেশ হিসেবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ বাংলাদেশের প্রায় ৯০ লাখ প্রবাসী নাগরিক রয়েছেন যারা কঠোর পরিশ্রম বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখছেন, তাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছেন। একই সাথে নিজেদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা স্বদেশে পাঠিয়ে তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তবে এসব প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনে থাকে অজ¯্র দুঃখগাঁথা, বঞ্চনা আর প্রতারণা কাহিনি। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা নিজেদের ন্যায্য বেতনটুকু থেকেও বঞ্চিত হন। অথচ এই প্রবাসীরাই মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কি অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন বিদেশের মাটিতে। আবার আজ তারা সেই বিদেশে থেকেও নিজের দেশকে সমৃদ্ধ ও উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে রাখছেন ব্যাপক অবদান। সহ¯্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আয় রেখেছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। দেশে বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি। ৯০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের ওপর দেশের প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ নির্ভর করে, যাদের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এই অভিবাসী শ্রমিক এবং বিদেশে অবস্থানরত দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের স্বীকৃতি প্রদান করেছে; তাদের সুরক্ষা এবং দেশে তাদের বিশেষ সম্মানের ব্যবস্থা করেছে এবং তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য গ্রহণ করেছ নানামুখী পদক্ষেপ। প্রবাসে তাদের সমস্যা সমাধানে নিদের দেশের সরকারি প্রতিনিধি/কূটনীতিকদের যেমন তিনি নির্দেশনা দিচ্ছেন ঠিক তেমনি বিশ্বসভায় তিনি এই দাবি তুলেছেন যে প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে হোস্ট কান্ট্রি বা শ্রমিকদের অবস্থানকারী রাষ্ট্রের দায়িত্ব অনেক। তাদেরই এটি নিশ্চিত করা কর্তব্য যাতে তাদের দেশে প্রবাসী শ্রমিকদের কেউ শোষণ, নির্যাতন বা কোনোরকম বৈষম্য বা বঞ্চনার শিকার হতে না হয়। একই সাথে উন্নত দেশগুলোরও এ বিষয়ে যতœবান হওয়া উচিত যাতে তাদের দেশে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত হয় এবং সেই সব সংগ্রামী শ্রমজীবী জনতা যেন কোনো প্রকার শোষণ, নির্যাতন বা প্রতারণার শিকার না হন।shastha

দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকার আদায়ে এতটা সোচ্চার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কণ্ঠস্বর হতে পারে বলেই হয়তো বাংলাদেশ গত ৬টি বছরের জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনে এবং বিভিন্ন কমিটিসমূহের নির্বাচনে জয়লাভ করে নির্বাচিত হয়েছে। বস্তুত, এ সময়ের মধ্যে কোনো আন্তর্জাতিক নির্বাচনেই বাংলাদেশ পরাজিত হয়নি; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রসমূহ বাংলাদেশের কথা ভেবে, বাংলাদেশ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে ওইসব নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারও করে নিয়েছে। বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ তথা বিশ্ব নেতৃত্বের আস্থা এবং প্রগাঢ় ভরসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে এসব আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে।

জাতিসংঘের সেকেন্ড কমিটির চেয়ার হিসেবে অধিকাংশ বিতর্কেই বাংলাদেশ সকল সদস্যকে মতৈক্যে নিয়ে আসতে পেরেছে। পিস বিল্ডিং কমিটি (পিবিসি) বা অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইসিওএসওসি) চেয়ার হিসেবে বিশ্বব্যাংকে জাতিসংঘ কমিটিসমূহের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করাতে সক্ষম হয় বাংলাদেশে। সাউথ-সাউথ কো-অপারেশনের চেয়ার হিসেবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বাধাসমূহ ও করণীয় চিহ্নিতকরণে বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা গ্রহণ করে। জাতিসংঘের ব্যুরো সদস্য এবং এলডিসি গ্রুপের চেয়ার হিসেবে ইস্তাম্বুল কর্মপরিকল্পনা (আইপিএও) প্রণয়নে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখে; শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের বিভিন্ন ফান্ড যেমন ইউনিসেফ, ইউএনডিপি, ইউএন উইমেন, জাতিসংঘ জনসংখ্যা কমিশন ইত্যাদির চেয়ার হিসেবে ওইসব অঙ্গ সংগঠনের কর্মপরিকল্পনায় ইস্তাম্বুল কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম ভূমিকা পালন করে।

সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতিসংঘ কমিটির ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে ২০১০ সালে বাংলাদেশ উক্ত কমিটির প্রস্তাব সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মতৈক্যের অর্জনে সফল হয়। ‘মানবপাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতিসংঘের বন্ধু’ রাষ্ট্রসমূহের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। মানবপাচার প্রতিরোধ ও অবসানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাহসের সাথে উটের জকি ও দাস হিসেবে শিশুদের ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মাঝে সোচ্চার জনমত গড়ে তোলেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি শিশুদের উদ্ধারের নির্দেশ দেন ও তাদের উদ্ধার পরবর্তী পুনর্বাসনের পদক্ষেপ সংক্রান্ত সার্ক সম্মেলনে ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতিসংঘের ‘ফ্রেন্ডস অব মিডিয়েশন’, ‘ফ্রেন্ডস অব ইনএ্যলিনেবল্ রাইটস অব প্যালেস্টাইন’, ‘ফ্রেন্ডস অব নো ফুড ওয়েস্ট, নো ফুড লস’ ইত্যাদি ভূমিকায় মানবতার মর্যাদা রক্ষা এবং জাতিসংঘ সদনের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

বস্তুতপক্ষে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘে একটি অত্যন্ত সম্মানজনক সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এবং বর্তমানে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশকেই চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। কেবল সর্বোচ্চ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবেই নয়, সক্ষমতার সাথে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাকারী দেশ হিসেবেও বাংলাদেশের সুনাম আজ জাতিসংঘে ব্যাপক। জাতিসংঘের ‘হি অ্যান্ড শী’ প্রোগ্রামের চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও বাংলাদেশের নাম চলে আসে সবার আগে। জাতিসংঘ মহাসচিবের ‘শিক্ষাই সর্বাগ্র’ শীর্ষক প্রকল্পে এবং মহাসচিবের স্বাস্থ্যরক্ষা সংক্রান্ত উদ্যোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে গণ্য করা হয়। মহাসচিবের নেতৃত্বে শান্তিরক্ষী নিয়োগ সংক্রান্ত সিনিয়র পরামর্শক কমিটির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষীদের নীল হেলমেট প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা সংক্রান্ত আঞ্চলিক রিভিউ কমিটির ঢাকা কনফারেন্সের আয়োজন করে বাংলাদেশ, ২০১৪ সালে এবং সদস্য রাষ্ট্রসমূহের শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণ দান করে। প্রতি ১০ শান্তিরক্ষীর মধ্যে একজন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নীল হেলমেট, বর্ম ও তলোয়ার চালানো এবং পুলিশের একটি নারী ইউনিট বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

জলবাযু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে জাতিসংঘে অত্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অপূরণীয় ক্ষতি ও চ্যালেঞ্জকে বিশ্ববাসীর সামনে যথার্থভাবে তুলে ধরতে তিনি সদা সচেষ্ট থেকেছেন। তিনিই একজন নেতা যিনি এ বিষয়টিকে বিশ্ববাসীর সামনে বারংবার তুলে ধরেছেন যে, পরিবেশ দূষণকারী না হয়েও স্বল্পোন্নত ও দ্বীপ-রাষ্ট্রসমূহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সবচেয়ে বড় হুমকির মধ্যে রয়েছে। কেবল বাগাড়ম্বর বা উচ্চবাচ্য না করে এ বিষয়টি তিনি কর্মপরিকল্পনার মধ্যে গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে কীভাবে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগুনো যায় তা নিজে তদারক ও কাজ করে চলেছেন। আজ সম্পদের স্বল্পতা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সংক্রান্ত দুটি ফান্ড গঠন করেছে। তাই সংগত কারণেই জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) তাকে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। কেননা পরিবেশ সুরক্ষার জন্য তিনিই বিশ্বের সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর; এবং পরিবেশ নীতিমালা গঠনের ক্ষেত্রে জোরাল ভূমিকা রেখেছেন। জলবায়ু ঝুঁকি ফোরাম (সিভিএফ) এবং জলবায়ু ঝুকিপ্রবণতা তদারকি (সিভিএম) গঠন করেছেন তিনিই। তার প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়েই জাতিংঘে ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিষয়ের দায়িত্ব বিষয়ক রাষ্ট্রদূত’ ফোরাম (Ambassadors with Responsibility to Climate Change-ARC) এবং ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বন্ধু’ (Friends of Climate Change-FCC) গঠন করা হয়েছে, যারা জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ ঘোষণার পরই আমরা দেখতে পাই যে অন্যান্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এই জটিল ইস্যুতে এগিয়ে আসছেন।

যুদ্ধ-বিগ্রহ, ভয়াল বন্যা, অনাবৃষ্টি, ক্ষরা, নদীভাঙন ইত্যাদি নানা কারণে সাম্প্রতিককালে দেশে দেশে যে হারে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে বা নিজ দেশে কাজ হারিয়ে দেশান্তরী হয়ে পড়ছে জীবিকার তাগিদে, কিংবা শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় খুঁজছে বিভিন্ন দেশে তখন সেই সব কঠিন সমস্যার কারণ খুঁজে আর কোনো মানুষ যেন শরণার্থী না হয়, বাস্তুচ্যুত না হয় তার ব্যবস্থা করার জন্য জোরাল দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। সম্পদশালী দেশগুলো সম্পদের অপব্যবহারের মাধ্যমে আজ পৃথিবীর পরিবেশের এই দশা করেছে, যদিও তাদের অবিমৃষ্যকারিতার ফল পেতে হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে, যারা হয়তো কোনোভাবেই এই ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা জলবায়ু’র কারণে উদ্বাস্তু হওয়ার জন্য দায়ী নয়। অথচ তাদেরই সবচেয়ে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। বাংলাদেশ মনে করে এই অবস্থা হতে উত্তরণের দায় এবং দায়িত্ব উভয়ই উন্নত বিশ্বকে নিতে হবে। হয় তাদের এসব নানান প্রক্রিয়ায় করা পরিবেশ দূষণ বন্ধ করতে হবে; অথবা তাদের এমন কাজ করতে হবে যাতে যুদ্ধ-বিগ্রহ না বাধে বা মানুষ নিজের দেশ ছাড়তে বাধ্য না হয়।

শেখ হাসিনা কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। লক্ষ্য অর্জনে তিনি পিছপা নয় এক কদমও। তার অক্লান্ত প্রয়াসের ফলে বাংলাদেশের কর্মজীবী জনসংখ্যার মাঝে আজ নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ৩৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা পূর্বে ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। আজ বাংলাদেশে সরকার প্রধান একজন নারী। জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং সংসদ উপনেতাও নারীÑ নারীর ক্ষমতায়নের এ এক অনবদ্য সংযোগ। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ সেই গুটিকয়েক রাষ্ট্রের মধ্যে অন্যতম যেখানে বছরের শুরুতে দেশব্যাপী শিশুদের মধ্যে ৩২৬ মিলিয়ন বই বিতরণ করা হয় বিনামূল্যে। বাংলাদেশ সেই রাষ্ট্র যেখানে এনজিওরা উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সরকারের সাথে সমান তালে অংশগ্রহণ করে। তাই বাংলাদেশ আজ তার উদ্ভাবনী সুশাসন প্রক্রিয়া এবং যুক্তির নিরখে চলার জন্য বিশ্ব দরবারে সম্মানিত। সামগ্রিক এই প্রক্রিয়ায়, সন্দেহ বা বিস্ময়ের কোনো অবকাশই নেই যে, সেই বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনা, আজ জাতিসংঘ তথা বিশ্ব পরিম-লে শান্তি ও ন্যায্যতার এক মূর্ত প্রতীক হিসেবে নিজের দেশ ও জনগণকে তুলে ধরেছেন সবার ওপরে।

জয়তু বিশ্বনেতা শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান

* জনগণের ক্ষমতায়ন মডেল : অস্থিরতা, সহিংসতা, পরমত অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য এবং ব্যাপক জন-অসন্তোষের ক্ষেত্রে এই মডেল বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

* কালচার অব পিস : বিগত সময়ে সরকারের থাকাকালীন বাংলাদেশ কর্তৃক জাতিসংঘে শান্তির সংস্কৃতির ধারণা প্রচলন করা হয়। জাতিসংঘের ভিতরে ও বাইরে এই ধারণা ব্যাপক সমর্থন লাভ করে; কেননা এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, যা সমগ্র জাতিসংঘ ব্যবস্থার মাঝে অনুরণিত হয়।

* শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (পিস কিপিং) : শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা সর্বজনবিদিত ও স্বীকৃত। জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিম-লে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বদ্ধপরিকর। তার গতিশীল নেতৃত্বে বিশ্বে আজ সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে সমাদৃত বাংলাদেশ।

* শান্তি বিনির্মাণ (পিস বিল্ডিং) : তার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তি বিনির্মাণের বিষয়টি বিশ্বব্যাপী গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছে। স্বল্পদিন হলো এ সংক্রান্ত কমিশন গঠিত হয়েছে, যা ইউএন পিস বিল্ডিং কমিশন নামে পরিচিত। বাংলাদেশ এর গুরুত্বপূর্ণ মিটিংসমূহে সভাপতিত্ব করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে এ সংক্রান্ত সব কার্যক্রমের আলোচনায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে।

* বহুমাত্রিক নেতৃত্ব : নানামুখী জাতীয় ও বৈশ্বিক ইস্যুতে চ্যালেঞ্জ নিতে পিছপা নন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার অবিচল নেতৃত্বে বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিভিন্ন কমিটি এবং অনেকগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থায় সভাপতি এবং সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছে। বিগত ছয় বছরে বাংলাদেশে কোনো একটি নির্বাচনেও পরাজিত হয়নি। সকল দেশ ও তাদের নেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ এবং তার নেতা শেখ হাসিনা।

* সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মডেল দেশ : জাতিসংঘ মহাসচিবের ভাষ্যমতে বাংলাদেশ এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কেবল স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যেই নয়, অনেকগুলো উন্নত দেশের চেয়েও বাংলাদেশের এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সাফল্য ব্যাপক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে এর সফল বাস্তবায়ন তদারক ও মূল্যায়ন করে থাকেন এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

* ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের সুরক্ষা ও নেতৃত্ব দান : বর্তমানে বাংলাদেশ ৪৮টি স্বল্পোন্নত দেশের নেতা ও মুখপাত্র। তাই জাতিসংঘ তথা আন্তর্জাতিক ফোরামে এসব দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের নেতৃত্বও বাংলাদেশেরই। সর্বসম্মতভাবে বাংলাদেশ এই পদে নির্বাচিত হয়; বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাই বাংলাদেশকে এই পদে আসীন করেছে। এলডিসি রাষ্ট্রসমূহের স্বার্থরক্ষায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

* ভিন্ন জীবনের মানুষের সমস্যাকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসা : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই জাতিসংঘের সকল রাষ্ট্রের কাছে আজ অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও অটিজম সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গের সমস্যাবলি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। এ সংক্রান্ত বাংলাদেশের প্রস্তাব পৃথিবীর সব কটি রাষ্ট্রের অকুণ্ঠ সমর্থন লাভ করেছে। বিষয়টির প্রবক্তা হিসেবে বাংলাদেশের নাম আজ সব দেশ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

* জলবায়ুর ঝুঁকি আক্রান্তদের সমস্যায় নেতৃত্ব : জাতিসংঘের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সক্রিয়ভাবে কাজ করে দেখিয়েছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ঝুঁকি কতটা। এ সমস্যার কারণ খুঁজে আর কোনো মানুষ যেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শরণার্থী না হয়, বাস্তুচ্যুত না হয় তার ব্যবস্থা করার জন্য জোরাল দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। সম্পদশালী দেশগুলো সম্পদের অপব্যবহারের মাধ্যমে আজ পৃথিবীর পরিবেশের এই দশা করেছে, যদিও তাদের অবিমৃষ্যকারিতার ফল পেতে হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশগুলো, যারা হয়তো কোনোভাবে এই ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা জলবায়ু’র কারণে উদ্বাস্তু হওয়ার জন্য দায়ী নয়। অথচ তাদেরই সবচেয়ে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। বাংলাদেশ মনে করে, এই অবস্থা হতে উত্তরণের দায় এবং দায়িত্ব উভয়ই উন্নত বিশ্বকে নিতে হবে। হয় তাদের এসব নানান প্রক্রিয়ায় করা পরিবেশ দূষণ বন্ধ করতে হবে; অথবা তাদের এমন কাজ করতে হবে যাতে যুদ্ধ-বিগ্রহ না বাধে বা মানুষ নিজের দেশ ছাড়তে বাধ্য না হয়। জলবায়ু ঝুঁকি ফোরাম (সিভিএফ) এবং জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণতা তদারকি (সিভিএম) গঠন করেছে বাংলাদেশ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর প্রতিষ্ঠা করেন জাতিসংঘের ৬৭তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে।

* আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ আইনি সমাধান : শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমা নিয়ে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সাথে যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল সেই বিষয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে (International Tribunal on the Law of the Seas-ITLOS) যাওয়ার যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত তিনি গ্রহণ করেন, তারই ফলস্বরূপ বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমার ওপর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র ভারত এবং মিয়ানমারও তাদের আইনগত ন্যায্য পাওনা পেয়েছে। কোনো সংঘাত বা যুদ্ধ ছাড়াই এহেন বিরোধ নিষ্পত্তির ঘটনা পৃথিবীতে বিরল।

* জাতিসংঘের মাধ্যমে অভিবাসীদের অধিকারের সুরক্ষা : অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার জন্য নিরলস কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সংক্রান্ত জাতিসংঘ কমিটিতে তিনি যথার্থভাবে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন এবং তার পক্ষে সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়ছেন। অভিবাসী শ্রমিকের মানবাধিকার, কাজের পরিবেশ, বেতন ও নিরাপত্তা এসব বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য সকল রাষ্ট্রের প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

* সাউথ-সাউথ অ্যান্ড ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশনের কণ্ঠস্বর : সাউথ-সাউথ সংক্রান্ত জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সভাপতি বাংলাদেশ। আর সাউথ-সাউথের কণ্ঠস্বর হচ্ছেন শেখ হাসিনা। সম্প্রতি এই রাষ্ট্রসমূহের সাফল্য ব্যাপক, যার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দৃশ্যমান।

জাতিসংঘ সনদের মূল লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়ন

* প্রথমত : সহিষ্ণুতার চর্চা এবং ভালো প্রতিবেশী হিসেবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান;

* দ্বিতীয়ত : আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার সাথে একতাবদ্ধ থাকা;

* তৃতীয়ত : এই নীতির প্রতি অবিচল থাকা যে শক্তি প্রয়োগ কোনোভাবে করা হবে না, একমাত্র সামষ্টিক স্বার্থ ছাড়া;

* চতুর্থত : বিশ্বের সকল মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শক্তিসমূহকে কাজে লাগানো;

* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সনদের এসব মূলনীতির আলোকে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও শন্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন।,,,

Leave a comment

Posted by on June 6, 2017 in the 75 tragedy


জাতির পিতাকে হারিয়ৈছি, তার সুযোগ্য কন্যাকে হারাতে চাইনা। নাছির ধ্রুবতারাঃ

জাতির পিতাকে হারিয়ৈছি, তার সুযোগ্য কন্যাকে হারাতে চাইনা। নাছির ধ্রুবতারাঃ
জাতির পিতাকে হারিয়ৈছি, তার সুযোগ্য কন্যাকে হারাতে চাইনা। নাছির ধ্রুবতারাঃ- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৃনমূল নেতা-কর্মী নয় নিবেদিত প্রান সাধারন সমর্থকের একমাত্র মনোভাব নিয়ে লেখাটি। লেখাটি পড়ে মনে কষ্ট নেবেন না, আর কষ্ট নিলেই বা কি হবে? আমরা তো বড় দলীয় পদ-পদবী, সরকারি দল হিসেবে বিশেষ সুযোগ সুবিধা কিবাং হালুয়া রুটির লোভে সংগঠন করিনা । আসলে বেশ কিছুদিন লিখবো লিখবো করেও নিজের ইচ্ছেকে দমন করেছি, কারন আমার মত অতি নগন্য দলীয় কর্মী সাধারন সমর্থকের যেহেতু আওয়ামী লীগের প্রতি বিশেষ ভালোবাসা বা হৃদয়ের টান রয়েছে তাই যুদ্ধপরাধীদের বিচার সহ দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন এষ জ্ন্য আমাদের প্রানপ্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা যেখানে নিজে সব বাঁধা বিপত্তি, নিজের ও পরিবারের জীবন নাশের আশংকাকে তোয়াক্কা না করে অবিচল ও অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সেখানে অনলাইনে সরকার বা দলের কোন কাজের সমালোচনায় যদি পাকিস্থানী চেতনার অনুসারী মানুষগুলো সামান্য উৎফুল্ল বোধ করে কিবাং নিজের প্রিয় দল ছোট হয়, তাই অতি কষ্টে নিজেকে দমিয়ে রেখেছি অনেকদিন (হাইব্রিড ফরমালিনের যাতাকল সহ্য করেছি দাঁতে দাঁত চেপে । এরকরাটা অতি সামান্য কারন একরাতে পরিবারের সবাইকে হারিয়ে একজন নারী যেখানে নিজের কথা না ভেবে হৃদয়ের কষ্টকে চেপে রেখে আপনার আমার সর্বোপরি দেশের কল্যানে নিরলস কাজ করে যেতে পারেন সেখানে আমার এই মন্দ লাগার কোন স্থান হতে পারেনা ৳ কিন্তু গুলশানের ঘটনা ঘটার পর কিছু কথার উত্তর চাওয়াটা ও উত্তর পাওয়াটা এবং প্রিয় নেত্রীর নিরাপত্তা চিন্তায় নিবেদিত মুজিব আদর্শের কর্মী হিসেবে ফরজ হয়ে গেছে । তাই জানতে চাই পদ-পদবীধারী, সরকারের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব প্রাপ্তদের নিকট এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে সব দয় কি একা একজনের ?? নিচের প্রশ্নগলোর জবাব ও ভীষন প্রয়োজনঃ- ১। গুলশান ডিপ্লোমেটিক জোনে সবসময়ই পুলিশ কিবাং অনান্য সংস্থার ১ কিবাং দুইটি চেকপোষ্ট দিনে ও থাকে এবং যেহেতু ঈদের বদ্ধের কারনে ঢাকার নিরাপত্তা বিধানর বিষয়ে আরো বিশেষ ব্যাবস্থা ও নেওয়া হয়েছে ও কুটনীতিক পাড়া হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে গুপ্তহত্যার কারনে বাড়তি নিরাপত্তা বেষ্টনী ও যেখানে থাকর কথা, সেখানে এই ধরনের ঘটনা যা বাংলাদেশে প্রথম? কিভাবে এত নিবিঘ্নে সংগঠিত হয়?? ২/ আইন শৃংখলা বাহিনীর বাইরে ও নিরাপত্তার জন্য সিটি করর্পোরেশান মেয়র ঢাক ডোল পিঠে মিডিয়া ডেকে প্রতিটি স্থানে সিসি ক্যামেরা দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছেন, সেগুলির আসলে কাজ কি? এটা মন ভুলানো হৃদয় জয় করার বিশেষ আয়োজনই ছিল মাত্র? ৩/ জংগীদের অপতৎপরতা, গুপ্ত হত্যার প্রেক্ষিতে সারাদেশে অভিযান বিশেষ চালিয়ে আটক অনেকের কাছে বিশেষ করে এই নাশকতা ঘটানো জংগীদের জিম্মি মুক্তির তিনটি শর্তের প্রথমটি ছিল ডেমরা থেকে আটক হওয়া জেএমবি নেতা খালেদ সাইফুল্লার মুক্তি । অত্যন্ত আক্ষেপের বিষয় এই জংগী থেকে প্রচুর তথ্য উপাত্ত আমাদের বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনী পেয়েছেন বলে সাংবাদিক ডেকে প্রেস কনফারেন্স করে জানিয়েছেন বহু আগে । এছাড়া কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হবার আগে আদালতে কোন জবানবদ্ধী নেয়া ব্যাতিত কথিত ভিডিও জবানবন্দীর কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছন বিশেষ বাহিনী সিটি প্রধান উপ-পুলিশ প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান । মাদারিপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের গনিতের শিক্ষক ও পুরোহিত রিপন চক্রবর্তীর উপর হামলা চালিয়ে পালানোর সময় ছয় জন হামলাকারীর মূল অভিযুক্ত হিসেবে আদালতে চার্জশীট প্রদান ও সম্ভবপর নয় । এ সমস্ত ঘটনা প্রচুর সন্দেহের জন্ম দেয় । এখানে বাকী পাঁচ জংগীকে বাঁচানোর জন্য জবানবদ্ধী না নেয়া হয়েছে বললে আইনগতভাবে অভিযোগটি গ্রহনযোগ্য এবং তদন্তযোগ্য । আদালতে ১৬৪ এ জবানবদ্ধী আদালতে গ্রহনযোগ্য্য নয় । মধ্যে শুধু ফাহিম স্থানীয় জনতা ধরে ফেলে । মামলায় আসামী ও ছয়জনকে করা হয় । প্রচলিত আইনী প্রক্রীয়া হচ্ছে যে অভিযোগে গ্রেফতার হয় তা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবদ্ধী নেয়া, তারপর অন্য কোন বিষয়ে অগ্রসর হওয়া । কিন্তু তা করা হয়নি । যার ফলে বাকী পাঁচজন শুধু সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা যাবে কিন্তু তাদেরকে আরো আছে আজ পুলিশের আইজিপি মহোদয় জানালেন নিহত ছয় জংগীর মধ্যে পাঁচ জংগীই তালিকাভুক্ত ও খুছছিলেন, আপনাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করি কি বিশেষ কারনে জংগী বিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে ১৪ হাজার জনকে গ্রেফতার করতে পারলে ও এই পাঁচজনকে পাওয়া যায়নি (সমগ্র আটকর মধ্যে তালিকাভুক্ত ১৫৪ জন জংগী) । এদের কাছ থেকে কোন তথ্য কি নেওয়া হয়নি? ঘটনার দশ ঘন্টা আগে এ ধরনের ঘটনা সংগঠনের হুমকি ও আসে আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে । আমাদের আইন শৃংখলা বাহিনী কি দেশের শান্তি নিরাপত্তা রক্ষার বদলে অপরাধ সংগঠনের অপরাধীদর গ্রেফতারের কাজে নিয়োজিত? তানাহলে গুরুত্বপূর্ন তথ্য পেয়েছেন বলে পুলিশের ৪/ জংগী দমনে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনকারী এসপি বাবুল ও তার পরিবার জংগীদের হিট লিস্টে ছিলেন বহুদিন ধরে । এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সিএমপিকে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা গ্রহনের কথা বলা হলে ও বর্তমানে ডিএমপি ডিবিতে চাকুরীর এক বিশের কর্মকর্তা তখন সিএমপিতে থকার কারনে নিরাপত্তা দেয়া হয়নি । তার সাথে এসপি বাবুলের সাথে বৈরি সমর্পক ছিল , যার কারন তিনি জংগী বিরোধী অভিযান পরিচালনা না করতে বেশ কয়েকবার বলেছিলেন। এমনকি এসপি বাবুল এর পোষ্টিং অর্ডার ঢাকায় হলে জংগী দমনে তিনি সিএমপি ডিবিতে থকার আগ্রহ প্রকাশ করলে ও তা শোনা হয়নি। আর এসব কারনে ঢাকার ডিবিতে কর্মরত ঐ ব্যাক্তি বাবুল আহামেদকে অপদস্থ করতে তার শ্বশুরের বাসা মধ্যরাতে ডিবি অফিসে নিয়ে যান । কি এমন ঘটনা, কোন পলাতক আসামী ও নন বরং সারাদেশে জংগীবিরোধী অভিযান পরিচালনায় সব্বোচ সাফল্য পাওয়া তাকে একনামে সারাদেশের সকল পুলিশ চিনতেন একজন দক্ষ কর্মকতা হিসেবে । তাহলে তাকে কেন নেয়া হলো? তাকে অপদস্থ করার জন্য, যেহেতু তার অপরাধ তিনি জংগী দমনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন এবং ভবিষৎ এ রাখবেন । আর এ সমস্ত আলামত প্রমানকরে আইন শৃংখলা বাহিনীর ভেতর জংগীদর পৃষ্ঠপোষকতাকারী ও সহায়তাকারী লোক আছে, তারা কারা? যদি না থাকে তাহলে এতবড় ঘটনা কিভাবে করা সম্ভব । ৫ /সকল গোয়েন্দা সংস্থা ব্যার্থ, সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মর্কতা ব্যার্থ, মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে যিনি আছেন তিনি সহ সবাই কেন এখনো নিজ দায়িত্বে বহাল থাকবেন ?? নিজের বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে এখনি সরে দাঁড়ান । আপনাদের সফলতা আর ব্যার্থতা সব কিছুই কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বহন করবেন । মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি সরকার তথা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চেতনা সত্যিই বুকে ধারন করেন তাহলে এখনি পদত্যাগ করুণ । দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া আপনাকে দলের ও দেশর ইতিহাসে সন্মানের আসনে বসাবে। নাহলে সবার কাছে সকল প্রাননাশের ঘটনার দায়বদ্ধতা নিয়ে নিজের বিবেকের কাছে আসামী বাকি সময়টা কটাতে হবে । একজন স্বজন মানুষ হিসবে আপনি স্বীকৃত, সামান্য ক্ষমতার লোভে জীবনের ত বড় অর্জনটা কি বিসর্জন দেবেন?? আপনার এই গুনের কারনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ স্বল্প সময়ের মন্ত্রী পরিষদে আপনাকে পদ্দোনতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী । অন্তত নেত্রীর আস্থার কথা ভেবে দায়িত্ব থকে সরে যান ৬/ এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একজন ব্যাক্তি দলে এবং সরকারে যাকে জাতীয় চার নেতার সন্তান ও উভয় ক্ষেত্রে তার পদবীর প্রতি সন্মান জানিয়ে ও তার থেকে যোগ্যতার সকল ক্ষেত্রে ক্রুদ্র হওয়ায় বিনীতভাবে ক্ষমা চেয়ে প্রশ্ন করতে চাই- দেশের বিশেষ পরিস্থিতে ছাত্রলীগের সভায় তিনি যে মন্তব্য করেছেন তার একটি অংশ মেনে নেয়া যায়, যদি মেনে নেয়া হয়, কারন ১৪ দলীয় জোট গঠন ও সরকারে অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত সাধারন সম্পাদক হিসেবে তার অসসম্মতি কখনোই হওয়া সম্ভব নয় (যদি তার পদবীর কারনে বলা শ্রেয় ছিলনা), জাসদ সংক্রান্ত,যদি ও উক্ত বক্তব্যের পর দলের কার্যনির্বাহী সভায় তিনি বিষয়টি হালকা করতে যার ব্যাখা দিয়েছেন নুতন প্রজন্মকে ইতিহাস জানিয়েছেন । মেনে ও নিলাম মাননীয়, কিন্তু জাসদকে মন্ত্রীত্ব কিবাং সরকারে অংশগ্রহনের সুযোগ দেবার খেসারত সরকারকে দিতে হবে, এ জাতীয় বক্তব্য দিয়ে তিনি কি ভবিষৎ বানী করেছেন? তিনি কি রাজনীতিবিদ নন, দলের সাধারন সম্পাদক নন এবং মন্ত্রীপরিষদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রনালয় জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী নন । জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের অধীনে সকল মন্ত্রনালয় কারনে কল সরকারী কর্মকর্তা – কর্মচারী, সকলের চাকুরী আচরন বিধি, সকল বিষয়ে অবহিত ও অনুমোদনর পরই অনান্য মন্ত্রনালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয় । এমনকি প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের বিশেষ কিছু বিষয় এই মন্ত্রনালয়র অধীনস্থ । শুধূ তাই অন্য মন্ত্রনালয়ে চকুরীরত যে কাউকে চাকুরী বিধি অনুযায়ী নিজ মন্ত্রনালয়ের অধীনে নিয়ে আসার মত ক্ষমতা রয়েছে এ মন্ত্রনালয়ের । মোদ্দ কথা সরকার পরিচালনার (সরকারের প্রশাসন ও প্রজাতন্ত্রভুক্ত সকল কর্মচারী কর্মকর্তা)। আর দল ও সরকারের দ্বিতীয় ব্যক্তি হয়ে সেই জায়গার কোন বিপর্যয় হবে, তা কিভাবে অনুমোদন করলেন বং নিজমুখে সবীকারোক্তি ও দিলেন। ক্ষতি তা আপনার বক্তব্যের মাধ্যমে কি অশনী সংকেত করেছেন তা জাতির কাছে ও দলের কাছে পরিষ্কার হববার আগেই ঘটে গেল গুলশান ট্যাজেটি । আর সবকিছু জানার পর পারিবারিক অবকাশে বিদেশে বসে নিজের ফেইসবুকে নাশকতার বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারনই কি আপনার দায়িত্ব সম্পাদন। নিজের বাবাকে আর ছোট করবেন না । যিনি জাতীয় চার নেতার অন্যতম এবং দায়িত্ব সম্পাদনে নিজের জীবন স্বেচ্ছায় দিয়ে গেছেন, মন্ত্রীত্বের বদলে মৃত্যকে বেছে নিয়েছেন। যোগ্যতার সকল ক্ষেত্রে আপনার কাছে আমি অতি ক্ষুদ্র আগেই বলেছি কিন্তু একজন বিবেকবান সাধারন মানুষ হিসেবে কারোই দায়িত্ব পালন না করতে পারলে বিশেষ কুটনৈতিক সুপারিশে প্রাপ্ত দায়িত্ব আঁকড়ে থাকতো না । যেখানে দল কিবাং সরকার যেন প্রতিকূল অবস্থায় না যায় তা ঠেকানো দায়িত্বভার আপনারই সবচেয়ে বেশী, সেখানে আপনার মত সৎ ও সদালাপী মানুষের আচরনে আমরা দলের ক্ষুদ্র নেতা-কর্মীরা অত্যন্ত হতাশ হয়ে আপনার প্রতি প্রতি অনাস্থা জানাচ্ছি এবং আপনি সৎ মানুষ কিনা সেটা ও আপনাকেই রায় দিতে অনুরোধ করছি। তারপরও বক্তব্যের শেষ অংশটির মুজেজা পরিষ্কার করুন, আত্নপক্ষ সর্মথন গ্লানী মুক্ত হোন । নাহলে ইতিহাসে অপরাধীর খাতায় আপনার শেষ ঠিকানা হবে, নিশ্চিত জানুন। সবকিছুর শেষে দলের ত্যাগী অবহেলিতদের নেতা-কর্মীদের যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে এবং করুন সাংগঠনিক ও বেহাল সংগঠনকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করুন মাননীয় নেত্রী । আপনাকে ভুল তথ্য , সঠিক অবস্থা জানানো হচ্ছে না । দ্রুত সুবিধাবাদী এই চক্রকে নির্মূল করে সত্যিকার থাবা এই বহুরুপী প্রশাসন কিবাং দলীয় কাঠামো দিয়ে উৎপাটন মোটে ও সম্ভব নয়। সম্ভব শক্তিশালী সংগঠনের ত্যাগী পরিক্ষিত নেতা-কর্মীদের সন্মিলিত প্রচেষ্ঠায়। প্রিয় নেত্রী নিজেদের দূর্ভাগে জাতির পিতাকে হারিয়ৈছি, তার সুযোগ্য কন্যা আমাদের আশ্রয়স্থল আপনাকে আমরা হারাতে চাইনা। জাতির পিতার নেতৃত্বে যে স্বাধীন জাতিসত্তার পরিচয় আমরা অর্জন করেছি সুদীর্ঘ সংগ্রাম ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মাবোনের সভ্রমের বিনিময়ে জাতি হিসেবে সেটা আবার ও কারো অধীনস্থ রাষ্ট্রের এস্টেট হিসেবে আবার পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ হবে ।

Read the rest of this entry »

Leave a comment

Posted by on September 4, 2016 in the 75 tragedy


বাংলাদেশ ছিলো, আছে এবং থাকবে যতোদিন না বিধাতার হুকুমে মহা প্রলয় না ঘটবে।

বাংলাদেশ ছিলো, আছে এবং থাকবে যতোদিন না বিধাতার হুকুমে মহা প্রলয় না ঘটবে। যতোদিন বাংলার মাটিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সর্বশেষ একজন আদর্শ সৈনিকও বেঁচে থাকবে, যতোদিন নৌকার একটি ভোটারো বাংলার কোন একটি নিভৃত পল্লীতে জয় বাংলার আদর্শ নিয়ে জীবিত থাকবে, ততোদিন বাংলাদেশ থাকবে। থাকবে জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা ও সন্মান। দুনিয়ার কোন হায়েনা পেশী শক্তি এই পবিত্র মাটির একটি কনাও ছুতে পারবে না। যেমন পারেনি ৭১এর ঘনকাল মুমুরষ দিনগুলিতেও। আজ যারা ভারতের দালাল বলে আওয়ামী লীগকে ধিক্কার দেয়, ধর্মের নামে জাতিতে জাতিতে ভেদাভেদ, মানুষে মানুষে হিংসা বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামার দিকে দেশকে ঢেলে দিতে চাইছে,  ভাইয়ে ভাইয়ে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খৃষ্টানের লেবাস পড়িয়ে বাঙ্গালী জাতির আজীবনের ঐক্যবন্ধনে বিভাজনের বিষ বৃক্ষ রোপণের পায়তারা করছে। ওরাই আসলে দেশদ্রোহী পশ্চিমা প্রভূদের পা’চাটা কুকুরের দল। যেয়ে দেখুন,ওদের ঘরে ২৪ ঘন্টা হিন্দি সিরিয়াল চলে, হিন্দি সিনেমা না দেখলে ওদের ঘুম হয়না। ওদের বউ ঝি’রাই ভারতের থ্রি পীচ আর শাড়ী না পড়লে কোন অনুষ্ঠানে যেতে পারে না। অন্যদিকে ওরাই আবার গোপনে ভারতের কাছে বিশেষ চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব দিয়ে আগামী নির্বাচনে সমর্থন আদায়ের জন্য তেল মালিশ করে।

বুঝে দেখুন, বুকে হাত দিয়ে বলুন, পাকিস্তানের হায়েনা পশুর দল ৭১ এ ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যা এবং ২ লক্ষ ৪০ হাজার মা বোনের ইজ্জত লুন্ঠনকারী কিভাবে আমাদের বন্ধু হয়? ভারতের সাথে আমাদের পারস্পরিক শিল্প বানিজ্য ও ভউগলিক দেনা পাওনা/ দ্বন্দ বিভেদ থাকতেই পারে। ভাইয়ে ভাইয়ে যদি সম্পদ বন্টন সংক্রান্ত বিভেদ থাকতে পারে, তাহলে ভারতের সাথেও থাকাটা অতি সাভাবিক। উভয় দেশের সার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনার সরকার একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে যার আশু বাস্তবায়ন ও অতি শীঘ্রই সম্পন্ন করা হবে। শেখ হাসিনা বরাবরই বলে থাকেন যে আমাদের কোন প্রভূ নেই, রয়েছে বন্ধু এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। যার প্রমান তিস্তা নদীর পানির হিস্যার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা ঠিক জাতির জনকের মতোই কঠোর ভাষায় আজকের ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি তখনকার হোম মিনিষ্টার শ্রী প্রণব মূখারজীকে ষ্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছিলেন” নো তিস্তা, নো ট্রানজিট”। সর্বোপরি, কোন তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই জননেত্রী শেখ হাসিনা তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি সম্পাদন করেছেন।

কই? বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা বিবিও তো দুই দুই বার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন? তিনি কেনো তিস্তার পানি বন্টনের বিষয়টির সমাধান করলেন না? মাঝে মাঝে খালেদা জিয়ার বক্তব্য শুনলে হাসি পায় আবার দুঃখও লাগে। তিনি কখনোই বাংলাদেশের সমূদ্র সীমানা নিয়ে মাথা ঘামাননি এবং মায়ানমারের কাছে বাংলাদেশের ন্যায্য হিসসার দাবী তোলেন নি। তিনি মূখ খুললেন যখন জননেত্রী শেখ হাসিনা মায়ানমারের নিকট থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য হিসসা বুঝে নিলেন। বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া সমুদ্র ভুখন্ড যেদিন দেশরত্ন শেখ হাসিনা উদ্ধার করে বিশ্বের কাছে, জাতি সংঘের কাছে এক আপোষহীন রাষ্ট্র নায়ক হিসেবে সন্মানিত হলেন। খালেদা জিয়া বললেন “শেখ হাসিনা সরকার মায়ানমারের কাছ থেকে বাংলাদেশের আসল পাওনা বুঝে আনতে পারেনিআমরা আরো পাবো। বি এন পি সরকার হলে পুরো পুরি বুঝে নিতো।

আজ দেশবাসীর কাছে আমার একটি প্রশ্নঃ তিনি কোথায় ছিলেন ১৯৯১-১৯৯৫ এবং ২০২০১-২০০৬ সালে? কি সারাদিন ফালু আর রাজাকারদের সাথে চক্রান্তের জাল বুনোনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন? নাকি শেখ হাসিনাকে হত্যার গভীর ষড়যন্ত্র আর পাকিস্তানের দেয়া অর্থের হিসাব করতে করতে ভুলেই গিয়েছিলেন যে আমাদের সমুদ্রের অনেক খানি ভুখন্ড মায়ান্মার সরকার দখল করে রেখেছে?  ধিক খালেদা জিয়া ধিক! আপনার মূর্খ অর্বাচীন রাজনৈতিক অদূরদর্শিতাকে। আপনি বাংলার নিরীহ সহজ সরল দুখি মানুষকে আর কতো বোকা বানাবার চেষ্টা করবেন?

মোকতেল হোসেন মুক্তি, সভাপতি, মালদ্বীপ আওয়ামী লীগ।


সাবধানে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিঃস্বার্থ নেতা কর্মী ভক্ত এবং জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী দেশ প্রেমিক বন্ধুদের একটি একান্ত অনুরোধ “আপনারা দেশ ও জাতির জন্য অনেক কিছু করার ইচ্ছা থাকা সত্বেও অনেক সময় অনেক কাজই সমাধান করতে পারেন না অথবা অনেক সময়ই দলের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা না পেয়েও দলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। আপনারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশে এবং দেশের বাইরে থেকে যারা আওয়ামী লীগ তথা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার জন্যে ক্ষমতা ও স্বার্থের উরদ্ধে থেকে সেচ্ছায় দলের জন্য কাজ করছেন । জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আপনাদের এই স্বেচ্ছায় সেবা প্রদানের জন্য আন্তরিকভাবেই কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি আমাদের মনে রাখতে হবে” জামাত শিবির বি এন পি ও যুবদলের কুচক্রি ঘাতক দালালের উত্তরসূরি মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে পাকিস্তানের প্রভুর হাতে সপে দিয়ে বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তানের একটি অংগ রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার গভীর চক্রান্তে লিপ্ত। এরা সীমাহীন দুর্নীতি ও দেশের জনগণের সম্পদ লুটপাটের মাধ্যমে বিশ্বের সেরা ধনিকের সারিতে দাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এই স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ইন্টারনেট জগতের এমন কোন শাখা প্রশাখা নেই, যেখানে ওদের কোন ডোমাইন ইউ আর এল নেই। এরা হ্যাকার । অনায়াসে আপনার আই ডি এবং পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারে। এদের সাথে বন্ধুত্বের আগে যাচাই করে নিন, তাকে আপনি চিনেন কিনা? বা তিনি আদৌ স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির সদস্য বা সমর্থক কিনা? এরা আওয়ামী লীগের সকল নেটওয়ার্ক গুলোতে ঢুকে পাকিস্তান, জিয়াউর রহমান, তারেক জিয়া, গোলাম আযম, নিজামী, সাঈদী, সাকাদের মুক্তির দাবী তুলছে এবং প্রচার করছে ইসলামিক রিপাবলিক অফ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়। কাজেই এদের রুখতে হলে সাবধানে কাজ করতে হবে।

Leave a comment

Posted by on May 20, 2012 in the 75 tragedy




The life of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman is the saga of a great leader turning peoplepower into an armed struggle that liberated a nation and created the world’s ninth most populous state. The birth of the sovereign state of Bangladesh in December 1971, after a heroic war of nine months against the Pakistani colonial rule, was the triumph of his faith in the destiny of his people. Sheikh Mujib, endearingly called Bangabandhu or friend of Bangladesh, rose from the people, molded their hopes and aspirations into a dream and staked his life in the long battle for making it real. He was a true democrat, and he employed in his struggle for securing justice and fairplay for the Bengalees only democratic and constitutional weapons until the last moment. It is no accident of history that in an age of military coup d’etat and ‘strong men’, Sheikh Mujib attained power through elections and mass movement and that in an age of decline of democracy he firmly established democracy in one of the least developed countries of Asia.

Sheikh Mujib was born on 17 March 1920 in a middle class family at Tungipara in Gopalganj district. Standing 5 feet 11 inches, he was taller than the average Bengalee. Nothing pleased him more than being close to the masses, knowing their joys and sorrows and being part of their travails and triumphs. He spoke their soft language but in articulating their sentiments his voice was powerful and resonant. He had not been educated abroad, nor did he learn the art of hiding feelings behind sophistry; yet he was loved as much by the urban educated as the common masses of the villages. He inspired the intelligentsia and the working class alike. He did not, however, climb to leadership overnight.

Early Political Life: His political life began as an humble worker while he was still a student. He was fortunate to come in early contact with such towering personalities as Hussain Shaheed Suhrawardy and A K Fazlul Huq, both charismatic Chief Ministers of undivided Bengal. Adolescent Mujib grew up under the gathering gloom of stormy politics as the aging British raj in India was falling apart and the Second World War was violently rocking the continents. He witnessed the ravages of the war and the stark realities of the great famine of 1943 in which about five million people lost their lives. The tragic plight of the people under colonial rule turned young Mujib into a rebel.

This was also the time when he saw the legendary revolutionary Netaji Subhas Chandra Bose challenging the British raj. Also about this time he came to know the works of Bernard Shaw, Karl Marx, Rabindranath Tagore and rebel poet Kazi Nazrul Islam. Soon after the partition of India in 1947 it was felt that the creation of Pakistan with its two wings separated by a physical distance of about 1,200 miles was a geographical monstrosity. The economic, political, cultural and linguistic characters of the two wings were also different. Keeping the two wings together under the forced bonds of a single state structure in the name of religious nationalism would merely result in a rigid political control and economic exploitation of the eastern wing by the all-powerful western wing which controlled the country’s capital and its economic and military might.

Early Movement: In 1948 a movement was initiated to make Bengali one of the state languages of Pakistan. This can be termed the first stirrings of the movement for an independent Bangladesh. The demand for cultural freedom gradually led to the demand for national independence. During that language movement Sheikh Mujib was arrested and sent to jail. During the blood-drenched language movement in 1952 he was again arrested and this time he provided inspiring leadership of the movement from inside the jail.

In 1954 Sheikh Mujib was elected a member of the then East Pakistan Assembly. He joined A K Fazlul Huq’s United Front government as the youngest minister. The ruling clique of Pakistan soon dissolved this government and Shiekh Mujib was once again thrown into prison. In 1955 he was elected a member of the Pakistan Constituent Assembly and was again made a minister when the Awami League formed the provincial government in 1956. Soon after General Ayub Khan staged a military coup in Pakistan in 1958, Sheikh Mujib was arrested once again and a number of cases were instituted against him. He was released after 14 months in prison but was re-arrested in February 1962. In fact, he spent the best part of his youth behind the prison bars.

Supreme Test: March 7, 1971 was a day of supreme test in his life. Nearly two million freedom loving people assembled at the Ramna Race Course Maidan, later renamed Suhrawardy Uddyan, on that day to hear their leader’s command for the battle for liberation. The Pakistani military junta was also waiting to trap him and to shoot down the people on the plea of suppressing a revolt against the state. Sheikh Mujib spoke in a thundering voice but in a masterly well-calculated restrained language. His historic declaration in the meeting was: “Our struggle this time is for freedom. Our struggle this time is for independence.” To deny the Pakistani military an excuse for a crackdown, he took care to put forward proposals for a solution of the crisis in a constitutional way and kept the door open for negotiations.

The crackdown, however, did come on March 25 when the junta arrested Sheikh Mujib for the last time and whisked him away to West Pakistan for confinement for the entire duration of the liberation war. In the name of suppressing a rebellion the Pakistani military let loose hell on the unarmed civilians throughout Bangladesh and perpetrated a genocide killing no less than three million men, women and children, raping women in hundreds of thousands and destroying property worth billions of taka. Before their ignominious defeat and surrender they, with the help of their local collaborators, killed a large number of intellectuals, university professors, writers, doctors, journalists, engineers and eminent persons of other professions. In pursuing a scorch-earth policy they virtually destroyed the whole of the country’s infrastructure. But they could not destroy the indomitable spirit of the freedom fighters nor could they silence the thundering voice of the leader. Tape recordings of Bangabandhu Sheikh Mujib’s 7th March speech kept on inspiring his followers throughout the war.

Return and Reconstruction: Forced by international pressure and the imperatives of its own domestic predicament, Pakistan was obliged to release Sheikh Mujib from its jail soon after the liberation of Bangladesh and on 10 January 1972 the great leader returned to his beloved land and his admiring nation.

But as he saw the plight of the country his heart bled and he knew that there would be no moment of rest for him. Almost the entire nation including about ten million people returning from their refuge in India had to be rehabilitated, the shattered economy needed to be put back on the rail, the infrastructure had to be rebuilt, millions had to be saved from starvation and law and order had to be restored. Simultaneously, a new constitution had to be framed, a new parliament had to be elected and democratic institutions had to be put in place. Any ordinary mortal would break down under the pressure of such formidable tasks that needed to be addressed on top priority basis. Although simple at heart, Sheikh Mujib was a man of cool nerves and of great strength of mind. Under his charismatic leadership the country soon began moving on to the road to progress and the people found their long-cherished hopes and aspirations being gradually realized.

Assassination: But at this critical juncture, his life was cut short by a group of anti-liberation reactionary forces who in a pre-dawn move on 15 August 1975 not only assassinated him but 23 of his family members and close associates. Even his 10 year old son Russel’s life was not spared by the assassins. The only survivors were his two daughters, Sheikh Hasina – now the country’s Prime Minister – and her younger sister Sheikh Rehana, who were then away on a visit to Germany. In killing the father of the Nation, the conspirators ended a most glorious chapter in the history of Bangladesh but they could not end the great leader’s finest legacy- the rejuvenated Bengali nation. In a fitting tribute to his revered memory, the present government has declared August 15 as the national mourning day. On this day every year the people would be paying homage to the memory of a man who became a legend in his won lifetime. Bangabandhu lives in the heart of his people. Bangladesh and Bangabandhu are one and inseparable. Bangladesh was Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman’s vision and he fought and died for it.


My practical experience, some of new leaders of BNP (retired amla) wants to be leader. They want to show something to Khaleda Zia in strike period. Want to be talk of the day as like Sadek Hossain Khoka. Khoka hold liquid tomato pack with him and blasted in due time while police caught him on the streets. Remember people? Shamsher Mobin Choudhury Beer Bikram Freedom fighter, I salute for his contribution, but I enjoyed his acting on strike period with police SI. He want to be arrested then news will be like this “Beer Bikram Shamsher Mobin Choudhury didn’t relief from the police tortured.

Good attitude but no need to do this simple acting for growing the attraction of Khaleda. Next time he will be foreign Minister if BNP comes to the power.

Bangabandhu Slideshow for website

<script src=”;mode=album&amp;clid=28698&amp;alid=87770&amp;tagname=&amp;q=&amp;repeats=-1&amp;time=2000&#8243; type=”text/javascript”></script>

Leave a comment

Posted by on May 20, 2012 in the 75 tragedy


জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের দুই বছরের সাফল্য (২০১০-২০১১)

জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের দুই বছরের সাফল্য (২০১০-২০১১)

বিশ্বের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক বিষয়াবলী বিবেচনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের সাফল্য অন্য যে কোন সরকারের তুলনায় প্রশংসনীয় এবং অগ্রগামী। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষে আওয়ামী লীগ সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের দিকে সাফল্যের সাথে অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে মায়ানমারের সাথে অমীমাংসিত সমুদ্র বিজয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের লক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ, শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন, দুর্নীতি ও লালফিতার দৌরাত্ম্যকমাতে টেন্ডারসহ সরকারী বিভাগসমূহের ডিজিটালাইজেশন, ২৪ ঘণ্টা প্রসূতি সেবা কেন্দ্র স্থাপন, জেলা শহরে বার্ন ইউনিট গঠন, রেলমন্ত্রনালয় পৃথকীকরণ, আইটি পার্ক, দেশকে পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন স্থাপন, বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস, কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য ৬শ ৮২ একর ভূমি বরাদ্দ ইত্যাদি পদক্ষেপ বাংলাদেশকে মাঝারি আয়ের দেশে পরিণত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ২০১০-১১ এ দুই বছরে জননেত্রী শেখ হাসিনার বাস্তব ও গণমুখী নেতৃত্বে সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যে সব সাফল্য অর্জন করেছে তা এখানে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

এটুআই (এ২আই) প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ই-সেবা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার লোককে সরাসরি সেবা দেওয়া হয়েছে। দেশের সকল নাগরিককে ই-সেবা দেয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় ও মাঠ পর্যায়ের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদেরকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগের ফলে কৃষিখাত, ব্যবসা-বাণিজ্য, রেলওয়ে টিকেট বিক্রয়, পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা, বিভিন্ন ধরনের বিল প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। বেপজার অধীনস্থ বিভিন্ন জোনের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ব্যবসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম ইপিজেডে আমদানি-রপ্তানি অনুমোদনের ক্ষেত্রে অটোমেশন পদ্ধতি চালু হয়েছে। ইপিজেড এলাকায় ৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে এবং আরো ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইপিজেডস্থ শিল্প-প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার বাংলাদেশীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে যা দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছে। আশ্রায়ণ প্রকল্প (ফেইজ-২) এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবারের জন্যে গৃহীত কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ১০ হাজার পরিবারকে ইতোমধ্যে পুনর্বাসিত করা হয়েছে এবং আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় আরো ৫০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনে জন্য উপকূলীয় অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য এলাকায় ব্যারাক ও গৃহনির্মাণের কাজ জুলাই-২০১০ থেকে শুরু হয়েছে যা জুন ২০১৪ সালে সম্পন্ন হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রণীত পলিসি এন্ড স্ট্র্যাটেজি ফর পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, ২০১০-এর আওতায় তিনটি গাইড লাইন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ

তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের দ্রুত সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ৫০টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও ৭টি অধিদফতর ইউনিকোড বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রণালয়/বিভাগ সমূহের মধ্যে ইলেকট্রনিক যোগাযোগ স্থাপন কার্যক্রমের আওতায় ২৩টি মন্ত্রণালয়/ বিভাগকে সচিবালয় নেটওয়ার্ক ব্যাকবোনের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসনসহ সকল পর্যায়ে ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান, ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনা চালু হয়েছে। রংপুরকে প্রশাসনিক বিভাগ করা হয়েছে।Image

সংস্থাপন মন্ত্রণালয়

জনপ্রশাসনে অধিকতর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রচলিত বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন পদ্ধতির পরিবর্তে কর্মসম্পাদন ভিত্তিতে মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবস্থা প্রবর্তনের কার্যক্রম চলছে । মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও নথি নিষ্পত্তি দ্রুততর করার লক্ষ্যে ডিজিটাল নথি প্রণয়ন, নথি ট্র্যাকিং ও নোটিং বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদেরকে তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর করার জন্যে ৬৬৫টি ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়

তিনসালা মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামোকে পাঁচশালা কাঠামোতে প্রণয়ন করা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বাজেট প্রণয়ন ও বাংলাদেশ অর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে এবং এ তহবিলকে কোম্পানিতে রূপান্তরের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সহজ উপায়ে কৃষিঋণ এবং সরকারি ভর্তুকির অর্থ পেতে ন্যূনতম ১০(দশ)টাকা সঞ্চয়ের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। করদাতাদের কর প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়কর মেলা এবং অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা গ্রহণসহ কর ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ অটোমেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প হিসেবে বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা রূপরেখা (২০১০-২১) প্রণয়ন করা হয়েছে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১১-১৫) প্রণয়নের কাজ চলছে। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানব সম্পদ উন্নয়ন, পশ্চাৎপদ এলাকার অধিকতর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার প্রদান করে ৩৮,৫০০ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (২০১০-১১) গৃহীত হয়েছে। এতে মোট ৯১৬টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত বিডিআর সদস্যদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যারা গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধসমূহ সংঘটন করেছে উল্লেখিত অপরাধসমূহ বিচারের জন্য বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (সংশোধনী) আইন, ২০০৯ পাশ করেছে। আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলাসমূহের দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা ০৭ থেকে ১১ এ উন্নীত করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি ওয়েব সাইট স্থাপন করা হয়েছে এবং সকল শাখায় ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। ২০১৫ সালের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশের মোট ১০ লক্ষ হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাসে ডিএফআইডি’র ৮৮৪কোটি টাকা (৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড) অনুদান সহায়তাসহ মোট ৮৮৬.৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ফেব্রুয়ারি ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর২০১৫ মেয়াদে ইকনোমিক এমপাওয়ারমেন্ট অব দি পুওরেস্ট ইন বাংলাদেশ (ইইপি) শীর্ষক একটি প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ চলছে। জুলাই ২০০৯ থেকে পল্লী এলাকায় উন্নত সেবা ই-পরিষদ শীর্ষক একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়

সকল প্রকার নন-ইউরিয়া সারের দাম কয়েক দফায় কমিয়ে চার ভাগের এক ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডের প্রচলন করে কৃষকেরা ১০ (দশ) টাকার ব্যাংক একাউন্ট খুলে সে একাউন্টের মাধ্যমে সরকারের দেয়া ভর্তুকিসহ বিভিন্ন কৃষি সহায়তা গ্রহণ করছেন। সরকারের সহায়তায় পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার দেশের কৃষি খাতে বিশাল অর্জন। কৃষকদের আর্থিক প্রণোদনা প্রদান ২৫% ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদান, রিবন রেটিং পদ্ধতির মাধ্যমে পাটের আঁশ ছাড়ানোর জন্য বিনামূল্যে ১৫ হাজার রিবনার প্রদান করা হয়েছে।

খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়

স্বল্প-আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্যে ফেয়ার প্রাইস কার্ড চালু করা হয়েছে। কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার সরকার নির্ধারিত মূল্যে মাসে ২০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন। বর্তমানে সারা দেশে এক লাখ ৩৫ হাজার মে. টন ধারণ ক্ষমতার খাদ্য-গুদামের নির্মাণ কাজ চলছে। আরো প্রায় সাড়ে আট লাখ মে. টন ধারণ ক্ষমতার খাদ্য-গুদাম সাইলো নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। আইলা ক্ষতিগ্রস্ত ৪৮ হাজার পরিবারকে ভিজিএফ হিসেবে ১৩,৪০২ মে. টন চাল এবং গৃহ নির্মাণের জন্য ৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়

জাতীয় শিক্ষানীতি জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়েছে। প্রাথমিকের শতভাগসহ এবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল, কারিগরিসহ মাধ্যমিকের সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ২০১০ সালের প্রথম দিনেই বই তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে ঝরে পড়ার হার হ্রাস পাওয়ায় এবছর গত বছরের ১৯ কোটি বইয়ের স্থলে ২৩ কোটি ২০ লক্ষ বই ছাপিয়ে পয়লা জানুয়ারিতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকীকরণ ও নতুন শিক্ষানীতিতে মাদ্রাসা শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

বর্তমান সরকার দু’বছরে প্রায় ৫৩ হাজার ১৪১জন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগদান করেছে। প্রায় ৯ হাজার মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকের চাকুরী দেয়া হয়েছে এবং আরও প্রায় ৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকে চাকুরী দেয়ার কার্যক্রম চলমান আছে। ২০১১ সালের মধ্যে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ৫৫টি পিটিআই-এ আইসিটি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে এক হাজার ১০০ অফিসে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন হতে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য “বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০১০” চালু করা হয়েছে ।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও অন্যান্য সেবা ও পরামর্শ কেন্দ্র হিসেবে এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৭ শত ২২টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। ২৮তম বিসিএস-এর মাধ্যমে ৭৮০ ও অ্যাডহক ভিত্তিতে ৩৫৫১ জন চিকিৎসক নিয়োগ এবং ১৭২২ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ৬ হাজার ৩ শত ৯১জন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে । মানসম্মত ঔষধ উৎপাদন ও বিপুল সম্ভাবনাময় ঔষধ রপ্তানি সুবিধার উন্নয়ন জোরদার করতে ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থিদের দমন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা-বিরোধী অপরাধের বিচার, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার নিশ্চিত করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার কমিটি গঠন করা হয়েছে। গার্মেন্টস শিল্প এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য শিল্পাঞ্চল পুলিশ গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-কে পুনর্গঠন করে ’বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন-২০১০ জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিকমানের ও স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। বাংলাদেশ পাসপোর্টকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) প্রবর্তন করা হয়েছে। জনগণের মধ্যে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রদান শুরু হয়েছে। ইভ-টিজিং রোধে (মেয়েদের উত্ত্যক্ত) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মেয়েদের উত্ত্যক্তকারী ব্যক্তিকে তাৎক্ষনিকভাবে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিচার করার জন্য মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ সংশোধন করে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সিএফএল ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে এই প্রথমবারের মতো দেশে বিনামূল্যে ৪৫ লাখ গ্রাহককে ১ কোটি ৫ লক্ষ এনার্জি সাশ্রয়ী সিএফএল বাল্ব বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৮০-১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। গ্যাসের যথার্থ ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০ জারী করা হয়েছে। গ্যাস সেক্টরের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার গ্যাস উন্নয়ন তহবিল গঠন করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী আমদানি নীতি ও রপ্তানি নীতি ২০০৯-২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও সহনীয় রাখতে টিসিবি’কে সক্রিয় এবং বাজার নিয়ন্ত্রণমূলক সমতা সৃষ্টি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যথাঃ চিনি, সয়াবিন তেল, পামঅয়েল, মশুর ডাল ও ছোলার আপতকালীন মজুদ গড়ে তোলা হয়েছে এবং টিসিবি’র নিয়োগকৃত ডিলারদের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে খোলাবাজারে বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

রাজউক এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রায় ৪৩ হাজার প্লট উন্নয়ন ও সাড়ে ৪ হাজার ফ্লাট নির্মাণের কাজ ৩২টি অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় চলমান রয়েছে। ঢাকার চারপাশে চারটি স্যাটেলাইট শহরে ১১৫০০ প্লট বরাদ্দ দেওয়ার কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

গার্মেন্টস সেক্টরসহ মোট ১৪টি বেসরকারি শিল্প সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী পুনঃনির্ধারণসহ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সেক্টরের শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের জন্য জাতীয় মজুরী ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১০ গঠন করা হয়েছে। জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি-২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার ও কর্তব্য সচেতনতামূলক ৬৬টি শ্রমিক শিক্ষা কোর্স আয়োজনের মাধ্যমে ১,৫৫৬ জন শ্রমিককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্য প্রবাহের অবাধ চলাচল সুনিশ্চিত করার জন্য তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ পাশ করা হয়েছে এবং তথ্য কমিশন গঠন, বেসরকারি মালিকানায় এফএম বেতারকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। শিশু ও নারী উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম (৩য় পর্যায়ে) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়

দেশে উন্নত প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক শিল্প প্রসারের জন্য কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্ক এবং কাওরান বাজারের বিসিএসআরএস ভবনে আশিটি ইনকিউবেটর স্থাপন করা হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নের জন্য রাশিয়া ফেডারেশন সরকারের সাথে একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। দেশে নবীন বিজ্ঞানী ও গবেষক সৃষ্টির জন্য বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ প্রবর্তন করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

রূপকল্প ২০২১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের আলোকে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার যে অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হয়ে আসছে। ফলত: বিশ্বপরিমন্ডলে বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ এবং কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি এবং উদ্যোগ বিশ্বে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে। গত দুই বছরে সকল আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্বাচনে বাংলাদেশ বিপুল সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইউএনডিপি, ইউনিসেফ, ইউএনইপি, ইউনেস্কো, ডব্লিউএইচও, আইটিইউ ইত্যাদি।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

শিক্ষিত আগ্রহী বেকার যুবক/যুবমহিলাদের জাতি গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে দুই বছরের জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় ক্রিকেট দল ওয়েষ্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়লাভ করেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

৩৫০০টি পাড়া কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬৮,০০০ শিশুকে প্রি-স্কুল শিক্ষাদান করা হয়েছে। প্রায় ১,১৮,০০০ পরিবারের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিমান উন্নয়ন, ৪টি আবাসিক বিদ্যালয়ের ৭০০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাদান করা হয়েছে। ৯৯৮ জন পাড়া কর্মীর মৌলিক ও ১৫০০ জন পাড়াকর্মীর সঞ্জীবনী প্রশিক্ষণ, ৫০ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ, ১১৮০টি পাড়াকেন্দ্রের নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে ।

শিল্প মন্ত্রণালয়

২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের শিল্পসমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় শিল্পনীতি ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। সারের মূল্য তিন দফায় কমিয়ে কৃষকদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনা হয়েছে। অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে ২০০৯-২০১০ উৎপাদন মৌসুমে ১৭ লাখ ৭ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। জাতীয় লবণনীতি প্রণয়নের কাজ চলছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

দেশের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করার জন্য দেশজ সংস্কৃতির বিকাশ শীর্ষক কার্যক্রম গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ কর্তৃক ২০১০-১১ অর্থ বছরের বাজেটে সংস্কৃতি খাতে ১০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। স্বাধীনতার স্মৃতি বিজড়িত স্থান নিয়ে সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক বলয় গড়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়

ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমানার বাংলাদেশ সীমানার সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা সেক্টরের সর্বমোট ১১২৯টি স্ট্রিপ ম্যাপের স্ক্যানিং ও ডিজিটাইজিং এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থ বছরে উপজেলা প্রতি ৪৬টি ভূমিহীন পরিবারের মাঝে ৫ হাজার একর কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়

প্রধানমন্ত্রীর ও ৬৪টি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মোট ৭২টি পয়েন্ট ভিডিও কনফারেনসিং নেটওয়ার্ক চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করা হয়েছে। প্রবাসীগণ স্বল্প ব্যয়ে যাতে কথা বলতে পারেন সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল রেট ৪ মার্কিন সেন্ট থেকে কমিয়ে ৩ মার্কিন সেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩টি পার্বত্য জেলায় টেলিটক মোবাইল চালু করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ ও টেরিস্টেরিয়াল নীতিমালা ২০১০ প্রণীত হয়েছে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প হিসেবে কক্সবাজার জেলার সোনাদিয়া দ্বীপে গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপন কার্যক্রম দ্রুততার সাথে এগিয়ে চলছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন করার জন্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বেনাপোল স্থল বন্দরের আধুনিকীকরণ কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ১টি মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৬টি নতুন মেরিন একাডেমী স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সরকার জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে। দেশের বৃহত্তর ২১টি জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস ও পরিবেশ আদালত স্থাপনের জন্য পরিবেশ আদালত আইন ২০০০ সংশোধন করা হয়েছে। জাতীয় পরিবেশ পদক চালু করা হয়েছে। চিত্রল হরিণ লালন-পালন সংক্রান্ত নীতিমালা ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। জাহাজ ভাঙ্গা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

অভিবাসী কর্মীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সম্বলিত স্মার্ট-কার্ড চালু করা হয়েছে। অভিবাসীদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, রেমিট্যান্স গ্রহণ ও তাদের প্রেরিত অর্থ দেশের উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং একই সাথে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও কল্যাণে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ৩০টি জেলায় ৩০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও ৫টি মেরিন টেকনোলজি ইন্সটিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মৎস্য ও পানিসম্পদ অধিদপ্তর

রূপকল্প ২০২১ এর আওতায় গৃহীত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসমূহ বিবেচনায় রেখে ইতোমধ্যেই মৎস্য উন্নয়ন প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০০৯-২০২১) প্রণয়ন করা হয়েছে। পানিসম্পদ অধিদপ্তর ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাংস, দুধ, ডিমের উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বৃদ্ধির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

হজ্জ ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি আদান-প্রদান ডিজিটালাইজ করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের স্থায়ী আমানত ১৬ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের স্থায়ী আমানত বৃদ্ধি করা হয়েছে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য এবারই প্রথম খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়

পর্যটন নীতিমালা ২০১০ প্রণয়ন, পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা, বিশেষ পর্যটন আইন ২০১০ প্রণয়ন, টুরিস্ট পুলিশ গঠন করা হয়েছে। এডিপির অর্থায়নে ১০৯৭.২৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ‘কুয়াকাটা মোটেলে ও ইয়ুথ ইন’ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়

বৈশ্বিক উষ্ণতাজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং সমুদ্র হতে ভূমি উদ্ধার প্রকল্পসহ গঙ্গায় বাঁধ নির্মাণের মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি স্বল্পতার প্রেক্ষিতে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের চাহিদার কথা বিবেচনা করে যৌথ নদী কমিশন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়

দেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার পণ্যের মোড়কী করনে পাটজাত পণ্যের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ প্রণয়ন করেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প প্রসারের প্রয়াসে খুলনা টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের কাজ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

১৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভের গ্লাস টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারি ২০১০ থেকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যানার্থে ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সকল জেলায় এবং ৮০৬.৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সকল উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

বয়স্ক ভাতা ২০০৮-০৯ অর্থ বছর থেকে ২০১০-১১ অর্থ বছরে ৪.৭৫ লক্ষ ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জন্য ৪২.৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলাদের জন্য ভাতা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়

পদ্মা সেতু নির্মাণের অর্থ সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। নভেম্বরে শুরু করে নয় মাসে কার্যকরের পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। মহানগরীর যানজট নিরসনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান চুড়ান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়েকে আলাদা বিভাগে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে ও অনলাইন ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে যানবাহন কর দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাশিয়ানি হতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি স্থল পর্যন্ত এবং ঈশ্বরদী হতে পাবনা হয়ে ঢালার চর পর্যন্ত নতুন ব্রড গেজ রেললাইন নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

খসড়া জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি অনুমোদনের কার্যক্রম চলমান আছে। বিমান বাহিনীতে এ.আর-১৫ রাডার এর কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এফ-৭ জঙ্গী বিমানের সার্বিক সুবিধা স্থাপনের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশের প্রতিটি ক্যাডেট কলেজে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন ও এমআইএসটিতে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ২০১০ মহান জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পূর্বের ৬টি বিভাগীয় শহরের সাথে রংপুর বিভাগে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। ইভটিজিং প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র‌্যালী, মানব বন্ধন ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত এক বছরে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩৫% যা একটি রেকর্ড। আশা করা যায় সরকারী সহযোগিতায় বাংলাদেশ বিশ্বে অনন্য স্থান অর্জন করবে। সম্প্রতি ব্রাজিলে মিশন খোলার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে কূটনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের ফলশ্রুতিতে জাতিসংঘ শিশুদের অপুষ্টির বিরুদ্ধে পদক্ষেপে নেতৃত্ব দিতে শেখ হাসিনাকে মনোনীত করেছে। নির্বাচনী ইশতিহারে যে সকল প্রত্যয় ও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছিল তাকে সামনে রেখে সরকার জাতি গঠনের কাজে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে বাংলাদেশ পরিণত হবে একটি মধ্যম আয়ের দেশে।

Leave a comment

Posted by on May 19, 2012 in the 75 tragedy


আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত প্রচেষ্টা : অপশক্তির কেন এই অপকৌশল?

Imageআওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত প্রচেষ্টা : অপশক্তির কেন এই অপকৌশল?

 মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের নামে ষড়যন্ত্র, সেনা অভ্যূথান প্রচেষ্টা এবং সর্বশেষ মহাসমাবেশের নামে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আরব বসন্তের ঘটিয়ে ৭১-এ পরাজিত একই অপশক্তি ৭৫-এর ন্যায় আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচূত করার রঙীন স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু কেন? একমাত্র সহজ উদ্দেশ্য ৭৫-এর ন্যায় আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষমতায় এসে ৭৫-এর ন্যায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে রেহাই দিয়ে তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করা।কৃষি, শিক্ষা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সফলতা বাদ দিলেও বিদ্যুত সমস্যার সমাধান এবং জ্বালানী তেলে ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয় তথা ধাপে ধাপে ভর্তুকি তুলে নিয়ে সরকার এমন সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে যার সুফল অন্ততঃ আগামী ২৫ বছর পর্যন্ত জনগণ ও পরবর্তী সরকার ভোগ করবে। আগামী ২ বছরের মধ্যে বিদ্যুত সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে জনগণ দীর্ঘ বছরের ভোগান্তি (অতীত এবং ভবিষ্যত) থেকে মুক্তি পাবে। আবার ভর্তুকি তুলে নেয়ার ফলে দেশী-বিদেশী ব্যাংক থেকে জ্বালানী তেল কেনার জন্য সরকারকে বিপুল পরিমান অর্থ ধার নিয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খাওয়া বা কঠিন চ্যালেন্জের সন্মুখিন হওয়া লাগবে না। সবচেয়ে বড় সমস্যার সমাধান হওয়ায় পরবর্তী সরকারের জন্য রাস্তা পরিষ্কার। বিদ্যুত ও জ্বালানীর দাম বাড়ানোসহ অন্যান্য অজুহাতে জনগণকে ক্ষেপিয়ে যে কোন মূল্যে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে এবং আওয়ামী লীগকে ঠেকিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারলে বড় সমস্যা না থাকার জন্য হেস-খেলে দেশ চালানো যাবে।দাম বাড়ানোর অজুহাতে আওয়ামী লীগকে জনগণের নিকট দোষী বানানোর চেষ্টা করলেও ক্ষমতায় যেয়ে বিদ্যুত ও জ্বালানীর দাম কমানো হবে না। আবার দেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগের ন্যায় দাম বাড়িয়ে জনগণের নিকট অপ্রিয় হওয়ারও আপাততঃ প্রয়োজন নেই। কী শান্তি। এভাবে অনেক বছর শান্তিতে ক্ষমতায় থাকতে পারলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে রেহাই দিয়ে তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করা যাবে যা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের মাধ্যমেও করা হয়েছিল।বর্তমানের ন্যায ১৯৭৫ সালেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান ছিল্। কিন্তু ১৯৭৫ সালে দেশে তেমন কোন মহাসংকট ছিল না। অপশক্তির ষড়যন্ত্র সত্বেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সফলতার সঙ্গে ১৯৭৪-এর দূর্ভিক্ষ মোকাবেলা করেছিলেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পূণর্বাসনের দ্বারপ্রান্তে এনেছিলেন। ঠিক তখনই জাতিকে ষড়যন্ত্রের জালে বন্দি এবং বিভ্রান্ত করে বঙ্গবন্ধু এবং ৪ নেতা হত্যাকান্ডের মাধ্যমে অপশক্তির এজেন্ট প্রয়াত জিয়াকে ক্ষমতায় বসানো হয়। মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ডায়েরী অনুসারে জিয়া উর্দু এবং ইংরেজীর ন্যায় বাংলা ভাল বলতে পারতো না কিন্তু মাইলের পর মাইল হাটতে পারতো। বাংলা ভাল না পারার জন্য ভাষণ কম দেয়া এবং মাইলের পর মাইল হাটতে পারার জন্য জিয়াকে দিয়ে খাল কাটিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। পৃর্থিবীর সবচেয়ে দামী সানগ্লাস চোখে অথচ গেন্জী ছেড়া; জনগণের সঙ্গে মশকরা কাকে বলে।

 বতর্মান সরকার যদি সুন্দরভাবে দেশ চালিয়ে স্বাথর্ক হয় তবে আগামী নির্বাচনেও জনগণের ভোটে আওয়ামী লীগ জয়ী হবে। জামাত-বিএনপি কোনভাবেই জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কারণ ২০০১-০৬ টার্মে তারা দেশের মঙ্গলের জন্য দৃষ্টান্তমূলক এমন কিছুই করে নাই যা জনগণ স্মরণ করে আবারও তাদের ভোট দিবে। একারণেই ক্ষমতায় আসতে হলে আওয়ামী লীগকেও ২০০১-০৬-এর ন্যায বা তারচেয়েও বেশী ব্যর্থ করতে হবে। তখন তারা জনমত সৃষ্টি করবে, আওয়ামী লীগ আমাদের চেয়েও ব্যর্থ, অতএব আমাদের ভোট দাও। অলরেডি তারা বিভিন্ন খবরের কাগজের অনলাইন এডিশন এবং ফেসবুকে আওয়ামী লীগের ব্যর্থতাই তাদের সফলতাএমন মন্তব্যের মাধ্যমে ২০০১-০৬ -এ নিজেদের ব্যর্থতাকে আড়াল করে আওয়ামী লীগের নামে ব্যর্থতার অপপ্রচার চালাচ্ছে।

 সরকার ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ তাতে জামাত-বিএনপির কিছুই যায়-আসে না; কারণ সরকার ব্যর্থ না হলে ক্ষমতায় আসার জন্য ভোটের সময় জনগণের নিকট তদের বলার কিছু থাকে না।পাকিস্তানপন্থী তাদের গোপন নীতি হচ্ছে দেশ পরে, দল আগে। একারণে দেশকে রসাতলে নামিয়ে এবং রসাতলে নামানোর দোষ আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে য়েকোন মূল্যে ক্ষমতায় আসতে হবে। এই হচ্ছে জামাত-বিএনপি জোটের দেশপ্রেম! 

১৯৭২-৭৫ সালেও বঙ্গবন্ধু সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং ৭৫-এর ট্রাজেডি ঘটানোর পিছনে একই অপশক্তি জড়িত ছিল।কিন্তু তখন অপশক্তির প্রধান রাজনৈতিক গ্রুপ ছিল জামাত এবং বর্তমানে বিএনপি।আমরা অনেকেই একটি বিষয় বুঝিনা যে বিএনপি জামাতেরই সৃষ্টি।প্রয়াত জিয়ার সুবিধাবাদী মুক্তিযুদ্ধে সংশ্লিষ্ঠতা এবং ২৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণার সাইনবোর্ড কাজে লাগিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে মুক্তিযুদ্ধারাই ক্ষমতায় আছে (বাস্তবে পাকিস্তানপন্থী) ১৯৭৫ সালে জামাত জিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। জামাতই পরবর্তীতে আইএসআই-এর সঙ্গে পরামর্শক্রমে জিয়াকে দিয়ে বিএনপি (বাংলাদেশ নয় পাকিস্তান = বিএনপি ; Bangladesh Not Pakistan) প্রতিষ্ঠা করে। ক্ষমতা গ্রহণের পর জিয়ার পাকিস্তান এবং জামাত প্রীতি থেকেই বিষয়টি পরিষ্কার। বর্তমানেও আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচূত করার ক্ষেত্র তৈরী তথা সরকারকে বেকায়দায় ফেলা, ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা বা ব্যর্থ করার গোপন মিশনের মূল পরিকল্পনাকারী জামাত, সঙ্গে আছে বিএনপির পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা।

 এমনকি এই অপশক্তি ৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ন্যায় বর্তমানে জননেত্রী শেখ হাসিনাকেও হত্যাকান্ডের স্বপ্ন দেখতেছে। বিডিআর ট্রাজেডি, ব্যর্থ সেনা অভ্যূথান এবং ফেসবুক-টুইটার বা অনলাইন খবরের কাগজে তাদের মিডিয়া গ্রুপের মন্তব্য সেই আলামতই বহন করে। 

সরকার ব্যর্থ অর্থ আওয়ামী লীগ ব্যর্থ। আওয়ামী লীগকে ব্যর্থ করার গোপন মিশন বাস্তবায়নের জন্য এই অপশক্তি মনে হয় ৪টি গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করছে ; ১। প্লানিং গ্রুপ , ২। পলিটিক্যাল গ্রুপ , ৩। অপারেশন্স গ্রুপ , এবং ৪। মিডিয়া গ্রুপ।

 প্লানিং গ্রুপ:

অন্য ৩ গ্রুপের প্রতিনিধিসহ, অপশক্তিপন্থী বুদ্ধিজীবি এমনকি আওয়ামী লীগ বিরোধী বিদেশী গোপন এজেন্টও এই গ্রুপ সংশ্লিষ্ঠ। সরকার এবং আওয়ামী লীগকে ব্যার্থ করার জন্য অন্য ৩ গ্রুপের কাজ কি হবে তা এখান থেকে নির্ধারিত এবং পরিচালিত হয়। সরকারকে ব্যর্থ করার বিভিন্ন ক্ষেত্র তৈরীর পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং অন্য ৩ গ্রুপ দ্বারা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নই হচ্ছে প্লানিং গ্রুপের প্রধান কাজ। তাদের গঠিত প্রকাশ্যে গ্রুপ নাইন বা জি-নাইন কিন্তু সরকার এবং আওয়ামী লীগকে ব্যর্থ করার জন্য এটাই গোপনীয় প্লানিং গ্রুপ হওয়া অসম্ভব নয়।

 পলিটিক্যাল গ্রুপ:

 প্লানিং গ্রুপের পরামর্শক্রমে কখন এবং কোন বিষয়ে কি রাজনৈতিক বক্তৃতা/বিবৃতি দিতে হবে তা বাস্তবায়ন করাই পলিটিক্যাল গ্রুপের কাজ। অপারেশন্ন গ্রুপের কাজ শেষ হওয়া (বক্তৃতা/বিবৃতির ক্ষেত্র তৈরী )-র পরপরই এই গ্রুপের কাজ শুরু হয়। সঙ্গেসঙ্গেই মিডিযা গ্রুপও রাজনৈতিক গ্রুপের বক্তৃতা/বিবৃতির সুত্র ধরে আওয়ামী লীগ বিরোধি জনমত সৃষ্টির জন্য অব্যহত অপপ্রচার শুরু করে।

 অপারেশন্স গ্রুপ:

 প্লানিং গ্রুপের পরামর্শক্রমে সরকার তথা আওয়ামী লীগকে প্রশাসনিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সাংগঠনিকভাবে বেকায়দায় ফেলা, ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা বা ব্যর্থ করার মূল কাজ অপারেশন্স গ্রুপ দ্বারা পরিচালিত হয়। সরকারের ভেতরে সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগ বিরোধি ঊধর্তন/নিম্নতম কমর্চারী, আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য এবং সরকারের বাইরে আওয়ামী লীগ বিরোধি এনজিও, বেসরকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊধ্বর্তন ব্যক্তিবর্গ, ছাত্র-যুব নেতা, সন্ত্রাসী, খূনী, ডাকাত, ছিনতাইকারী প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয় ও সেক্টর সংশ্লিষ্ঠ উপগ্রুপের সমন্বয়ে এই গ্রুপ গঠিত। অপারেশন্স গ্রুপ সংশ্লিষ্ঠ অপশক্তিপন্থী সন্ত্রাসী, খূনী, ডাকাত, ছিনতাইকারীদের কাজ হচ্ছে সন্ত্রাস, খূন, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি কিভাবে ২০০১-০৬-এর চেয়ে বেশী ঘটিয়ে সরকার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থএই দোষে দোষী করা যায়। তদ্রুপ, অপারেশন্স গ্রুপ সংশ্লিষ্ঠ যে যেখানেই আছে সেই অবস্থান থেকে কলম বা হাত দিয়ে চেষ্টা করে কি ভাবে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা যায়। 

বিডিআর বিদ্রোহে ইন্ধন দেয়াকে ভিত্তি ধরে অপারেশন্স গ্রুপ গঠিত হয়। বিডিআর বিদ্রোহের সময় এই অপারেশন্স গ্রুপ গঠিত না হলেও বিডিআরে লুক্কায়িত জামাত-হিযবুত জঙ্গীদের ইন্ধনে বিদ্রোহ সংগঠিত হয় যা বিএনপি হাই কমান্ড অবগত ছিল। বিএনপি হাই কমান্ড অবগত থাকার স্বপক্ষে যুক্তি হ, বিদ্রোহ সংগঠনের অনেক আগেই বেগম জিয়া ক্যান্টনমেন্ট বাসার বাইরে লুকিয়ে থেকে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন, কখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচূত হবে। বিদ্রোহে অপশক্তির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হলেও অন্য জায়গায় তারা সফল হয়েছে। তাদের মিডিয়া গ্রুপের সহযোগিতায় বিদ্রোহের সঙ্গে আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালিয়ে দেশবাসীকে বিভক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এই সফলতাকেই পূঁজি করেই পরবর্তীতে অপারেশন্স গ্রুপ গঠিত হয়। 

অপারেশন্স গ্রুপ দ্বারা পরবর্তীতে তারা অনেকগুলো সফলতা ঘরে তুলে নেয়। অপারেশন্স গ্রুপের ১ম সফলতা আসে আর্মি হাউজিং এষ্টেট প্রকল্প ব্যর্থ করার মাধ্যমে। পরবর্তীতে তারা আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর প্রকল্প ব্যর্থ করে আর এক সফলতা পায়।

 ডঃ ইউনুস বিষয়ে বিতর্ক সর্ষ্টি করে কূটনৈতিক সফলতা ঘরে তোলার জন্যও এই গ্রুপ কাজ করেছিল্। একটু লক্ষ্য করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। বিদেশী ওয়েবসাইটে বিষয়টি প্রকাশ করা এবং বাংলাদেশী মিডিয়াকে ফোকাস করানোর পিছনে অপারেশন্স গ্রুপের ইন্ধন ছিল। প্লানিং গ্রুপের উদ্দেশ্য ছিল অপারেশন্স গ্রুপের কাজ শেষ হলেই আওয়ামী লীগ তথা সরকার ডঃ ইউনুসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। সরকারের ব্যবস্থা নেয়ার পরপরই রাজনৈতিক গ্রুপ খুশি হয়ে সরকারের ব্যবস্থা নেয়ার বিরুদ্ধে বক্তৃতা/বিবৃতি শুরু করবে এবং মিডিয়া গ্রুপ ডঃ ইউনুসের পক্ষে ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করবে। সরকারের ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত বেগম জিয়ার মুখ থেকে ডঃ ইউনুসের পক্ষে দেশবাসী কোন বিবৃতি দেখে নাই। কারণ তিনি খুশি মনে অপেক্ষা করছিলেন কথন সরকার ব্যবস্থা নেবে এবং এই ইস্যুতে ডঃ ইউনুস ও হিলারী ক্লিন্টনের বন্ধুত্বের সুযোগে আমেরিকাকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে আমেরিকার সম্পূর্ণ সমর্থন বিএনপি-জামাত-হিযবুতের পক্ষে নেবে। 

আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও স্টক মার্কেট সংশ্লিষ্ট সরকারের ভেতরে এবং বাইরে লুক্কায়িত এই অপারেশন্স গ্রুপ শেযার বাজারকে টার্গেট করে এবং ৯৬ সালের তুলনায় শেয়ার বাজারকে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ করে তাদের মিডিয়া গ্রুপের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে আর এক সফলতা দেখায়। সকলেই জানে, শেয়ার বাজার থেকে সম্মিলিত ব্যাংক-ব্রোকারেজের বিনিয়োগকৃত হিউজ টাকা উত্তোলনের জন্যই বাজারে ধস নামে। ব্যক্তি সালমান এফ রহমান বা মোসাদ্দক আলী ফালু র বিনিয়োগকৃত টাকা সম্মিলিত ব্যাংক-ব্রোকারেজের টাকার নিকট নস্যি মাত্র।সম্মিলিত ব্যাংক-ব্রোকারেজের মালিকগণ অধিকাংশই বিএনপি-জামাতপন্থী।আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্য অপশক্তি দ্বারা শেযার বাজারকে টার্গেট করে নিজেদের প্রয়োজনে উঠানো এবং নামানোর জন্য পিছন থেকে ইন্ধন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করানো হতে পারে।  

পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থ ফেরত নেয়ার ঘোষণায় যে এই অপশক্তির কারসাজি আছে তা বিএনপি নেতা জনাব মির্জা ফকরুলের পদ্মা সেতু বিষয়ক সবর্শেষ বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়েছে।মির্জা ফকরুল সাহেব মালয়েশিয়ান সরকারকে জড়িয়ে প্রস্তাবিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিনিয়োগকৃত অর্থের উৎস জানতে চেয়েছেন যে এই অর্থ এ দেশের শেয়ার বাজারের কি-না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি চতুরতার সঙ্গে মালয়েশিয়ান বিনিয়োগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছেন যাতে মালয়েশিয়াও বিশ্ব ব্যাংকের ন্যায় বিতর্ক এড়ানোর জন্য পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে পিছু হটে যায়। অপশক্তি জানে,পদ্মা সেতু প্রকল্প সাকসেস হলে দক্ষিণবঙ্গের জনগণের নিকট আওয়ামী লীগের গ্রহলযোগ্যতা আকাশচুম্বি হবে ; যা কোন ভাবেই তারা মেনে নিতে পারে না। বড় বড় ঠিকাদারি প্রকল্পে দূর্নীতি এদেশে নতূন নয় এবং বিশ্ব ব্যাংক কোনদিনই ধোয়া তুলসি পাতা ছিল না। এটা দক্ষিণবঙ্গের জনগণ তথা সমগ্র দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা। হায় রে জামাত-বিএনপির দেশপ্রেম! 

সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য ধারাবাহিকভাবে কিছু ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই চট্টগ্রামে ছেলে ধরাআতংক দেখা দেয়। ইভটিজিং’, অতি মাত্রায় বেড়ে যায়, কোহেকাপ শহর থেকে ভূয়া জ্বিনের বাদশাহর মোবাইল ফোন, ১ টাকার গোল্ডেন কয়েন নিয়ে জালিয়াতি ইত্যাদি অনেক অনাকাংক্ষিত ঘটনা সমাজে পরিলক্ষিত হয়। লিমনকে পঙ্গু করে মিডিয়া ফোকাস করানো, জনতার বুকের উপর পুলিশের বুটসহ পা,পুলিশ কতৃর্ক জনতার কাপড় খুলে নেয়া,পুলিশ কতৃর্ক কাদেরকে অমানবিক নির্যাতন, গূম করা এবং গূম আতংক সৃষ্টি ইত্যাদি সরকার তথা আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য অপারেশন্স গ্রুপ সংশ্লিষ্ঠ উপগ্রুপের কারসাজি হওয়া অসম্ভব নয়। এমন কৌশলে খূন করা হচ্ছে যেন খূনিরা ধরা না পড়ে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রূনি হত্যাকান্ড এমন সূক্ষভাবে হয়েছে যে খূনীদে ধরতে আইন-শৃংখলা বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত হত্যাকান্ডের কোন কুল-কিনারা হয়নি। অপশক্তির মিডিয়া গ্রুপ আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে এ বিষযে অপপ্রচার চালিয়ে যথেষ্ট সফলতা দেখিয়েছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি পূনরূদ্ধ্বারে খূনীদের সনাক্তকরণ ও বিচার হওয়া জরূরী। এই হত্যাকান্ড সংশ্লিষ্ঠ বেডরুম বিষয়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে কাউন্টার দিয়ে বেগম জিয়ার বক্তব্যের ক্ষেত্র তৈরীর জন্য অপারেশন্স গ্রুপ সংশ্লিষ্ঠ খূনিরা সৌদী কূটনীতিককে হত্যা করে দেখালো যে শুধু বেডরুম নয়,রাস্তাঘাটেও সরকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।মহাসমাবেশ বেগম জিয়া সেরকম বক্তব্যই রেখেছেন। সেইসঙ্গে ৭২-৭৫-এর ন্যায় সৌদী সরকারকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্ষ্যাপানো এবং সৈদি প্রবাসীদেরকে সৌদী নাগরিকদের টার্গেটে পরিনত করা।প্রবাসীদের নিকট আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করানো ও মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানকে ঝূঁকিতে ফেলানোর জন্যও এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। সরকারের সঠিক সময়ে সঠিক তৎপরতার কারণে বিডিআর বিদ্রোহের পর নবগঠিত অপারেশন্স গ্রুপ এ পর্যন্ত মাত্র ৩ বার ব্যর্থ হয়েছে : মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের নামে নাশকতা, সেনা অভ্যূথান এবং মহাসমাবেশের নামে ৫ দিন অবস্থান করে আরব বসন্ত ঘটানো।

মিডিয়া গ্রুপ:

প্লানিং গ্রুপের প্লান মোতাবেক সরকারকে বেকায়দায় ফেলা, ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা বা ব্যর্থ করা সংশ্লিষ্ঠ টার্গেটে অপারেশন্স গ্রুপের অপারেশন্স শেষ হওয়ার পরপরই মিডিয়া গ্রুপ বিষয়টির সঙ্গে আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে অব্যহত অপপ্রচারণা শুরু করে।অপশক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে মিডিয়া গ্রুপ দ্বারা অপপ্রচার চালিয়ে অধিকাংশ জনগণকে বিভ্রান্ত করে আওয়ামী লীগ বিরোধি জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে ভোটের রাজনীতিতে লাভবান হওয়া। অপশক্তিপন্থী বিভিন্ন খবরের কাগজ ( প্রিন্টিং ও অনলাইনে লেখা ও নেতিবাচক মন্তব্য),স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ( রিপোর্টিং ও টকশো), গুজব (পরিকল্পিত) এবং ইন্টারনেটে ফেসবুক-টুইটার ইত্যাদি হচ্ছে মিডিয়া গ্রুপের অপপ্রচারের প্রধান হাতিয়ার।

মিডিয়া গ্রুপের অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক গ্রুপের মিথ্যা বক্তৃতা/বিবৃতির কৌশল প্লানিং গ্রুপ থেকে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ প্লানিং গ্রুপ নির্ধারণ করে কোন একটি বিষয়ে রাজনৈতিক গ্রুপ কতটুকু বক্তৃতা/বিবৃতি দেবে এবং মিডিয়া গ্রুপ কতটুকু অপপ্রচার চালাবে। উদাহরণ দেখিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করা যায়, মহাসমাবেশ স্থলে চিড়া,মুড়ি,গুড় সঙ্গে এনে ৫ দিন থেকে আরব বসন্ত ঘটানোর আহ্বান কোন নেতা-নেত্রীর বক্তৃতা/বিবৃতির মধ্যে নেই কিন্তু প্লানিং গ্রুপের পরিকল্পনা মোতাবেক মিডিয়া গ্রুপ দ্বারা ফেসবুক, টুইটার,খবরের কাগজের অনলাইন এডিশনে মন্তব্যের মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে। মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও জনগণের জান-মালের অধিকতর নিরাপত্তার স্বার্থে আইন-শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক কড়াকড়ি আরোপের বিষয়টিকে মিডিয়া গ্রুপ টার্গেট করে নেতীবাচক ব্যাখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ বিরোধি অপপ্রচার চালিয়েছে। তদ্রুপ, “আওয়ামী লীগের ব্যর্থাতাই বিএনপির সফলতা”- এই অপপ্রচারটি অপশক্তিপন্থী কোন নেতা-নেত্রীর বক্তৃতা/বিবৃতিতে নেই কিন্তু তাদের মিডিয়া গ্রুপ অব্যহতভাবে অপপ্রচারটি চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকার কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন সফলতা দেখিয়েছে যা আগামী অনেক বছর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে কিন্তু ২০০১-০৬ টার্মে বিএনপি-জামাত সফলতার একটা দৃষ্টান্তও দেখাতে সক্ষম হয়নি।সমুদ্র বিজয়ে ঐতিহাসিক সফলতা নিয়েও তারা ঘৃণ্য রাজনীতির মাধ্যমে কার অবদান বেশী কার কম বিষয়ে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। সমুদ্র মামলায় পরাজয় হলেই তারা খুশি হয়ে কাছা মেরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করতো।

অপকৌশলের বিপরীতে করণীয়: 

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপশক্তি দ্বারা নেতীবাচক ঘটনা ঘটিয়ে তার সঙ্গে আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে অপপ্রচারেও অগ্রগামী হওয়া তথা অপশক্তির মেরেও জেতা কেঁদেও জেতা মনোভাবের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। অপশক্তির নেতীবাচক তৎপরতার কারণে বিগত ৩ বছরে দেশের যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের চেষ্টাসহ ভবিষ্যতে এ ধরণের অপতৎপরতা রূখে দেয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি ও প্রগতিশীলদের সঙ্গে নিয়ে সদা সতর্ক থাকতে হবে। অপতৎপরতা রূখে দেয়ার জন্য প্রয়োজনে তাদের ন্যায বিভিন্ন কাউন্টার গ্রুপ সৃষ্টি করতে হবে। অন্ততঃ প্লানিং গ্রুপ এবং মিডিয়া গ্রুপ গঠন অতি জরূরী। যদিও তাদের মিডিয়া গ্রুপের অপতৎপরতার বিপরীতে স্বতঃস্ফুর্তভাবে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির মিডিয়া গ্রুপ দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। ফেসবুক-টুইটারে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকের সংখ্যা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্ত প্লানিং গ্রুপের অভাব বড়ই প্রকট। পরিকল্পনা এবং কৌশলের অভাবে প্রায়ই মন্ত্রী বা নেতা-নেত্রীদের বক্তব্যে সমন্বয়হীনতা দেখা যায়। অনেক সময় পাল্টা বক্তব্য কী হতে পারে ভেবে না দেখে অদূরদর্শী বক্তব্যের কারণে অর্জিত সাফল্য ম্লান হওয়ার উপক্রম হয়।বর্তমানে আওয়ামী লীগ থেকে ঢালাওভাবে সংবাদ মাধ্যম তথা মিডিয়াকে দোষ দেয়া হয়।যদিও অপশক্তিপন্থী মিডিয়ার একটা অংশ সবসময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লেগে আছে। কিন্তু মিডিয়ার প্রগতিশীল অংশ সবসময় আওয়ামী লীগের বন্ধু। একারণে ঢালাওভাবে মিডিয়াকে দোষারোপ না করে বক্তৃতা-বিবৃতিতে মিডিয়ার একটা অংশ”- কথাটির মাধ্যমে ঐ অংশকে দোষারোপ করাই যুক্তিসঙ্গত। অপশক্তি তাদের ন্যায় ( ফেব্রুয়ারী,১৯৯৬ এবং জানুয়ারি,২০০৭-এ প্রস্তাবিত) বিতর্কিত নির্বাচন করানোর জন্য আওয়ামী লীগকে ফাঁদে ফেলতে পারে যেন আওয়ামী লীগও ভোটারবিহীন নির্বাচন করে। আগামীতে ঐ রকম পরিস্থিতি সৃস্টি হলে সেটাই হবে আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন পরীক্ষা। ঐ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আওয়ামী লীগের মিডিয়া গ্রুপসহ সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে যাতে পরাজয়ের ভয়ে নির্বাচন বর্জন করে উল্টা আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপাতে না পারে। অপশক্তির অপকৌশল স্বার্থকভাবে মোকাবেলা করতে পারলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অপশক্তি বিভিন্ন কৌশলে আওয়ামী লীগ পন্থীদের মনে ভয় ধরানোর চেষ্টা করছে ; যেমন আওয়ামী লীগের পায়ের তলায় মাটি নেই, বুঝতে পারছে যে আর ক্ষমতায় যেতে পারবে না ইত্যাদি অপপ্রচার। এটা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক মনোবল ভেঙে দেয়ার অপকৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। বাস্তবে দুটি রাজনৈতিক উপনির্বাচনে হবিগন্জ এবং ব্রাধ্মনবাড়িয়ায় ভোটের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিএনপি-জামাত ২০০৮ -এ যে ভোট পেয়েছিল তাইই পেয়েছে। অর্থাৎ বিএনপি-জামাতের ভোট একটিও বাড়েনি, কারণ ২০০১-০৬ এ তাদের দুঃশাসন মানুষ ভুলেনি। হবিগন্জে প্রার্থী নির্বাচনে ভুলের কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা রাগ করে ভোট দেয়নি এবং মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টিও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছে। কিন্তু ব্রাধ্মনবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের যোগ্য প্রার্থী পাশ করেছে। তবে আবারও একই কথা,রাজনৈতিক উপনির্বাচনে ২০০৮-এর তুলনায় বিএনপি-জামাতের ভোট একটিও বাড়েনি। তাহলে জামাত-বিএনপির এত লাফালাফি শুধু নিজেরা নিজেরাই। ২০০১-০৬ -এর দুঃশাসনের জন্য তাদের সঙ্গে সাধারণ জনগণ নেই। অতএব, আওয়ামী লীগের হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। ২০০১-০৬-এর সঙ্গে ২০০৯-১৩-এর ভাল-মন্দ তুলনা করে যদি ভোট চাওযা হয় তবে অবশ্যই সাধারণ জনগণ আবারও আওয়ামী লীগের ডাকে সাড়া দেবে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা খুব সহজেই সাধারণ জনগণকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে বিএনপি-জামাতের ২০০১-০৬ টার্মে দেশের মঙ্গলের জন্য দুএকটা দৃষ্টান্তমুলক ভাল কাজ খুঁজে বের করার জন্য জনগণকে আহ্বান জানাতে হবে। নিশ্চয়ই তারা ব্যর্থ হবে। তখন বর্তমান সরকারের আমলে দেশের মঙ্গলের জন্য দৃষ্টান্তমুলক ভাল কাজগুলো জনগণকে অবহিত করতে হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা বা ব্যর্থতাও জনগণের নিকট স্বীকার করতে হবে। প্রথম সারির নেতা-নেত্রীদের দ্বারা না হলেও মধ্যম বা স্থানীয় নেতা- নেত্রীদের দ্বারা প্রতিবন্ধকতা বা ব্যর্থতার কারণ ( অপশক্তির গোপন বাধা বা অন্যান্য) জনগণের নিকট ব্যাখ্যা দিতে হবে।সফলতা বা ব্যর্থতা যাই হোক না কেন, যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য আওয়ামী লীগ আন্তরিকতা সহকারে ঝাপিয়ে পড়ে কিন্তু সমস্যা দেখলে বিএনপি-জামাত কানে তুলা দিয়ে না শুনার ভান করতো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে সাধারণ জনগণ কিছু পায় কিন্তু বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসলে তাদের নেতা-কর্মীরাই শুধু পায়;সাধারণ জনগণ কিছুই নয়; যার প্রমাণ বিগত বিএনপির আমল এবং বতর্মান আওয়ামী লীগ আমল।

এ পযর্ন্ত অর্জিত সাফল্যকে ধরে রাখা বা আরও বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যহত রাখতে হবে। কারণ অপশক্তি সাফল্যকে ব্যর্থ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে। এরকম একটা নিউজ দৈনিক সংবাদ (২০-০৩-১২ ইং)-এ প্রকাশিত হয়েছে যে, কূচক্রীরা বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ বিষয়ক টেন্ডারে বাধা দিচ্ছে যেন সরকার সময়মত পাঠ্যবই বিতরণে ব্যর্থ হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের সফলতা অতূলনীয় এবং অপশক্তির নিকট ঈর্ষণীয়। একারণে এটা মনে হয় অপশক্তির অপারেশন্স গ্রুপ দ্বারা পিছন থেকে ইন্ধন দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে সময়মত পাঠ্যবই বিতরণে ব্যর্থ করার অপচেষ্টা। 

বিএনপি-জামাতের ধ্বংসাত্মক মন-মানসিকতা বিষয়ক আরও দুটি উদাহরণ সাধারণ জনগণের নিকট উপস্থাপন করতে হবে। বিএনপি-জামাত পন্থীরা সবসময় স্বপ্ন দেখছে যে কখন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা হবে।অথচ আওয়ামী লীগ পন্থীরা ভুলেও কল্পনা করে না যে বেগম জিয়াকে হত্যা করতে হবে। রাজনীতির প্রতিযোগিতা রাজনীতির মাধ্যমে। না পেরে হত্যাকান্ডের মাধ্যমে প্রতিশোধ নেয়া কোন সুস্থ মানুষের চিন্তা-চেতনা হতে পারে না। 

ফেসবুক, টুইটার এবং খবরের কাগজের অনলাইনে বিএনপি-জামাত পন্থীরা প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে যে, ২ বছর পর দেখবো, আসিতেছে শুভদিন.., শুধিতে হবে ঋণ, ২ বছর পর পালানোর রাস্তা পাবে না ইত্যাদি। অর্থাৎ বিএনপি-জামাত আবারও ক্ষমতায় আসলে আবারও ২০০১-০৬ এর ন্যায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবে। আবারও আওয়ামী লীগ সমথর্ক এবং সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করবে। আবারও আওয়ামী লীগ সমথর্কদের ধরে ধরে হত্যা করবে।এবিষয়ে জনগণের নিকট প্রশ্ন রাখতে হবে; বিএনপি-জামাতের মনোবাসনা মোতাবেক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে সাধারণ জনগণ আবারও কি তাদের ভোট দেবে?

সৌদি কূটনীতিক হত্যাকান্ডের পর অপশক্তির পরবর্তী টার্গেট হতে পারে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী। উদ্দেশ্য হবে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে বেকাযদায় ফেলা। এক্ষেত্রে অপশক্তির পরবর্তী টার্গেট হতে পারে জনাব এইচ এম এরশাদ। জনাব এরশাদকে হত্যা করতে পারলে ( আল্লাহ যেন তাদের সে আশা পূরণ না করে) সহজেই আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপানো যাবে। কারণ এরশাদ সাহেব বর্তমানে আওয়ামী লীগ এবং সরকারের বিরুদ্ধে অনেক বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন। এই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে এরশাদের অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টিকে চিরতরে ধ্বংস করে এবং আওয়ামী লীগের ঘাড়ে হত্যাকান্ডের দোষ চাপিয়ে জাতীয় পার্টির সকল ভোট অপশক্তির পক্ষে নিয়ে মহাজোটকে দূর্বল করা সহজ হবে। অতএব, আওয়ামী লীগ এবং মহাজোটের পক্ষ থেকে জনাব এরশাদকে সতর্ক করা জরুরী।

 আওয়ামী লীগের সামনে দিনগুলোকে অপশক্তি আরও কঠিনতম করার চেষ্টা করবে। তবে, নেতা-কর্মী, মন্ত্রী-এমপি সকলে মিলে এবং সব ভেদাভেদ ভুলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠিতভাবে অগ্রসর হলে অপশক্তি কিছুই করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মন্ত্রী-এমপিদের দূরত্ব ঘোচানোর এখনই উপযুক্ত সময়। মন্ত্রী-এমপিদের ( কারও কারও স্ত্রীর) নামে অনৈতিক লেন-দেন ও স্বজনপ্রীতির কথা বাতাসে ভাসে। এগুলো অপশক্তির মিডিয়া গ্রুপের অপপ্রচার হওয়া অসম্ভভ নয়। কিন্তু যাদের নামে বাতাস বয় তাদেরই উচিৎ বাতাস থেকে তথ্য সঙগ্রহ করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা। তা না হলে কানকথাই মানুষ বেশী বিশ্বাস করে। এ দিক দিয়ে, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় সঠিক অবস্থানে আছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর নাম ভাঙিয়ে কেউ কোন অনৈতিক কাজ করলে যেন পুলিশে খবর দেয়া হয়। বাবু সুরন্জিত সেনগুপ্তের এপিএসের গাড়ীতে ৭০ লাখ টাকার ঘটনাটি তাঁকে ফাঁসানোর জন্য পিছন থেকে অপশক্তির অপারেশন্স গ্রুপের খেলা হওয়া অসম্ভব নয়। অপারেশন্স গ্রুপ নিশ্চয়ই এই টাকার মুভমেন্ট অর্থাৎ কখন কোথায় যাবে তা অবগত ছিল এবং সেভাবেই মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে ফাঁসানোর জন্য ছক করা ছিল। গাড়ীর ড্রাইভার পুলিশের সাহায্য না নিয়ে বিজিবিদের নিকট যাওয়ার অর্থ দাড়ায় পুলিশ এপিএসকে রক্ষা করতে পারে কিন্তু বিজিবি নয়। একারণে অপারেশন্স গ্রুপের পরিকল্পনা অনুসারে বিজিবিদের সাহায্য নেয়া হতে পারে এবং ড্রাইভার অপারেশন্স গ্রুপের সদস্য হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাছাড়া বিএনপি নেতা জনাব এম কে আনোয়ার (সাবেক আমলা) এই ঘটনার আগের দিনই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারে সম্পদের হিসাব চেয়েছেন। বেশ কয়েকদিন ধরে জনাব মির্জা ফকরুলসহ বিভিন্ন বিএনপি নেতা মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে এ ধরণের বক্তব্য রাখছেন। বিষয়টি এরকম হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে এই ঘটনা দ্বারা অপারেশন্স গ্রুপের মাধ্যমে তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে ক্ষেত্র তৈরি করা হল। জনাব এম কে আনোয়ার সাবেক আমলা এবং বিষয়টি রেল আমলাদের সংশ্লিষ্ঠ। তিনি প্লানিং গ্রুপের আমলা সদস্য এবং নিশ্চয়ই অবগত ছিলেন অপারেশন্স গ্রুপ সংশ্লিষ্ঠ আমলা উপগ্রুপ দ্বারা এই ঘটনা ঘটানো হবে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে টিভি ক্যামেরা এসে হাজির হওয়ার অর্থ দাড়ায় মিডিয়া গ্রুপও অবগত এবং প্রস্তুত ছিল। বিষয়টিকে আওয়ামী লীগের জন্য একটা শিক্ষা হিসেব গ্রহণ করে সবাইকে এখনই সতর্ক হওয়া দরকার যেন সরকারের মধ্যে লুক্কায়িত অপশক্তির এজেন্টদের পাতা ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে কেউ এভাবে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি এবং নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস না করে।

 সবশেষে বলা যায়, ১৯৭১-এ পরাজিত ৭৫-এর অপশক্তি যে সাপকে ছোবল মারার পূর্বে তখন সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সে সাপকে বর্তমানে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং আবারও ছোবল মারার জন্য গর্তের ভেতর শক্তি সন্চয় করছে। সাপকে বাড়তে দিতে নেই। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ঐ সাপকে গর্তের মধ্যেই ধ্বংস করতে হবে এবং এখনই উপযুক্ত সময়।

Leave a comment

Posted by on May 19, 2012 in the 75 tragedy